সিটি গ্রাউন্ডে লড়াইয়ের আগের বড় প্রশ্ন ছিল- কোন দল শেষ পর্যন্ত তাদের গোলখরা কাটাতে পারবে? কারণ, চলতি মৌসুমে নিজেদের মাঠে নটিংহ্যাম ফরেস্ট যেমন এখনও গোলের মুখ দেখেনি, তেমনি ইস্ট মিডল্যান্ডসের এই মাঠে আর্সেনালের সাম্প্রতিক রেকর্ডও ছিল বেশ হতাশাজনক।
নতুন কোচ অলিভার গ্লাসনারের অধীনে ফরেস্টের আক্ষেপের গল্পটা আরও দীর্ঘ হলো। ৯ নম্বর পজিশনে লিয়াম ডেল্যাপের উদ্যমী ফুটবল স্বাগতিক দর্শকদের উজ্জীবিত করলেও, পঞ্চমবারের মতো ঘরের মাঠে গোলহীন থাকতে হয় তাদের। অন্যদিকে, প্রত্যাশিত ছন্দ না পেলেও চেনা ছকে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি মুখে মাঠ ছাড়ে মিকেল আরতেতার দল।
সময়ের সাথে সাথে ম্যাচটি গানার সমর্থকদের সেই পরিচিত সুরেই সুর মেলায়- ‘ওয়ান-নিল টু দ্য আর্সেনাল’। আর্সেনালের পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শটই ছিল লক্ষ্যভেদী, আর তাতেই বাজি মাত করেন ননি মাদুয়েক।
ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ডেকলান রাইসের বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে বাম দিক থেকে ভেতরে ঢোকেন বদলি নামা মাদুয়েক। চলতি মৌসুমে নিজের সেরা ছন্দ খুঁজতে থাকা এই উইঙ্গারের নেওয়া জোরালো শট ফরেস্টের ডিফেন্ডার জাইর কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক ম্যাটজ সেলসকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়।
পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল ফরেস্ট। তবে বদলে নামা ক্রিস উডের শট রাইস ব্লক করেন এবং শেষ মুহূর্তে ডেল্যাপের নিশ্চিত সুযোগ নস্যাৎ করে দেন এজরি কনসা। ইনজুরির কারণে সেরা তারকা মরগান গিবস-হোয়াইটকে ছাড়া নামা ফরেস্টের আক্রমণের ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট ছিল।
টেবিলে শীর্ষে থাকা সিটির ওপর চাপ বজায় রাখতে গানারদের এই ম্যাচ জয় আবশ্যক ছিল। প্রত্যাশিতভাবেই তারা বল দখলের লড়াইয়ে আধিপত্য রাখে, তবে জমাট ৫-৪-১ ফরমেশনে খেলা ফরেস্টের রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়। প্রথমার্ধে কোনো দলই লক্ষ্যভেদী শট নিতে পারেনি। কাই হাভার্টজের একটি হেড পোস্টের ওপর দিয়ে যাওয়া ছিল গানারদের প্রথমার্ধের সেরা সুযোগ।
দ্বিতীয়ার্ধে গতি ফেরাতে আরতেতা একযোগে তিনটি পরিবর্তন আনেন- মাঠে নামান টিম্বার, মেরিনো ও গয়োকেরেসকে। অবশেষে ৮০ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই গোলের দেখা পায় আর্সেনাল।
ম্যাচ শেষে স্বস্তির জয় নিয়ে মাদুয়েক বলেন, আমরা আজ চ্যাম্পিয়ন দলের মানসিকতা দেখিয়েছি। হয়তো গত মৌসুমে এই ম্যাচটি আমাদের পক্ষে আসত না, তবে এখন দলের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা অনেক বেশি।
