যত দিন যাচ্ছে, বাড়ছে কংক্রিটের জঙ্গল। সময়ের সঙ্গে কমছে রংবেরঙের প্রজাপতি। চারদিকের সবুজ প্রকৃতি ক্রমশ কমছে। বিপন্ন হচ্ছে প্রকৃতি। এবার দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) প্রজাপতি বাঁচানো থেকে প্রকৃতি রক্ষার বার্তা দেওয়া হচ্ছে পুজো মণ্ডপে। এবার মণ্ডপের বাইরের অংশের রংও সবুজ। রয়েছে বিভিন্ন রঙের, আকারের প্রজাপতি। নবদ্বীপের দেয়ারাপাড়া দুর্গাপুজোয় এবার এই ভাবনা থিম (Theme) আকারে উঠে এসেছে।
এবার এই পুজো ৮১ বছরে পড়ল। মণ্ডপসজ্জায় নতুনত্ব আনা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া মণ্ডপের থিম থেকে। সবুজ হারিয়ে গেলে একদিন আগামী প্রজন্মের কাছে প্রজাপতি হয়তো শুধুই স্মৃতি হয়ে থাকবে। এই আশঙ্কাকেই সামনে এনেছেন উদ্যোক্তারা। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা যাতে শুধু মণ্ডপের ভাবনায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সে দিকেও নজর দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। থিমের মণ্ডপ হলেও প্রতিমায় সাবেকি ধারাই বজায় রয়েছে। মৃন্ময়ী দুর্গার রূপ এখানে যথেষ্ঠ জমকালো, নজরকাড়া।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক দিলীপ কাঞ্জিলাল, পুষ্পকার সাহা জানান, প্রতি বছরই নতুন ভাবনায় পুজো করার চেষ্টা করেন তাঁরা। এবারও তেমনই ভাবনা রয়েছে। গাছপালা কেটে নতুন নতুন বহুতল হচ্ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ, জল দূষণ হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে প্রজাপতির চেনা বিচরণক্ষেত্র। আগামী প্রজন্মের জন্য এই বিষয় যথেষ্ট ভয়ের। সেজন্যই সতর্কতার জন্যই এই ভাবনাকে মণ্ডপের থিমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা যাতে শুধু মণ্ডপের ভাবনায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও নজর দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
পুষ্পকার সাহার কথায়, “মণ্ডপ তৈরিতে মূলত পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।” অর্থাৎ, যে পরিবেশ রক্ষার কথা তাঁরা বলছেন, পুজোর আয়োজনেও সেই ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা সামনে রেখে পুজোর আয়োজন করেছে দেয়ারাপাড়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। এবার ৮১তম বর্ষেও সেই ধারাকে বজায় রেখে প্রজাপতিকে কেন্দ্র করে তাদের বিশেষ ভাবনা। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি এই পুজো মনে করিয়ে দিতে চায়, প্রকৃতি শুধু মানুষের নয়—প্রজাপতি, পাখি, গাছপালা-সহ সমস্ত প্রাণের।
