২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
গতকাল রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্তের অন্যতম দু’জন অভিনেতা ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে গতকাল সাক্ষ্য দিয়েছেন বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। জবানবন্দীতে তিনি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সামনে এনেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই এই সাক্ষীকে বাংলাদেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোর-জি ও থ্রি-জি ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশ দেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী পলক। ১৬ জুলাই আবু সাইদসহ ছয়জন নিহত হওয়ায় বিটিআরসির একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন পলক-জয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন, এনটিএমসির তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও বৈঠক করে সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন। এসব বিষয়ে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী। একইসঙ্গে পাঁচটি নথি উপস্থাপন করা হয়। ইন্টারনেট বন্ধ করার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনে চালানো গণহত্যার খবর যেন দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক মহল জানতে না পারে। আর এ খবর আড়াল করতেই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।
মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় আসামীদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ নিয়ে তামিম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় ১৮ ও ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরাসহ এর আশপাশের কয়েকটি থানা এলাকায় নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করেছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যার ফলশ্রুতিতে বেশ কয়েকজন ছাত্র-জনতা নিহত হন। তার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একটি ন্যায্য দাবির আন্দোলনে সরকারের নিপীড়নের সমালোচনা শুরু করে মানুষ। এরপর পদ্ধতিগত অপরাধ হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় সরকার। যেন মানুষ এই গণহত্যার খবর জানতে না পারেন। ঠিক পরদিন ১৯ জুলাই যখন আবারও একইভাবে গণহত্যা পরিচালিত হয়। আর এ খবর মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছিলেন, তখন ১৯ জুলাই রাতে সরকারি সিদ্ধান্তে কারফিউ জারি করা হয়। ২০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এভাবে নির্বিচারে সারাদেশে আন্দোলনকারীদেরকে হত্যা ও আহত করা হয়।
তিনি বলেন, এ মামলায় ২৬ আসামীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগের স্বপক্ষে তথ্যপ্রমাণ, চাক্ষুষ সাক্ষীসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও উপস্থাপন করতে পারবো। এ মামলা আমরা প্রমাণ করতে পারবো বলে আমরা মনে করি।
ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে থামালেন ট্রাইব্যুনাল
‘এতো অধৈর্য হচ্ছেন কেন’—প্রসিকিউশনের উদ্দেশে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দীর একটি অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন ঘিরে বাদানুবাদের একপর্যায়ে সাক্ষীকে উদ্দেশ করে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’। এ সময় পলককে থামিয়ে কথা কম বলতে বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। এদিন একই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।
জবানবন্দীর একপর্যায়ে সাক্ষীর কাছে একটি প্রশ্ন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অর্থাৎ তার কথাটি ভূতাপেক্ষ কিনা এটা জানতে চান। এ নিয়ে প্রথমে সাক্ষী বলতে না চাইলেও বলে ওঠেন ভূতাপেক্ষ হবে।
ঠিক তখনই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রসিকিউশনের উদ্দেশ্যে পলক বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন। এখানে আমার বিচার হচ্ছে। ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে এখানে আসি নি।’
এ সময় প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘এখানে আসামীপক্ষের আইনজীবী রয়েছেন। কিছু বলতে চাইলে তারা বলবেন। হুটহাট কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অনুমতি না নিয়ে কোনো আসামী এভাবে কথা বলতে পারেন না। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন দেখাতে চান এই প্রসিকিউটর।
এ পর্যায়ে আসামীপক্ষের আইনজীবীরা বলে ওঠেন, ‘কথায় কথায় আইন দেখাচ্ছেন কেন।’ এমন কথায় আপত্তি জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের নজরে আনেন প্রসিকিউটর তামিম। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামীপক্ষ কী এ কথা বলেছেন। এটা খুবই আপত্তিকর।
তখন আসামীপক্ষ থেকে বলা হয়, যদি প্রসিকিউশন কোনো কিছু নিয়ে কথা উত্থাপন করেন, তাহলে আসামী বা আইনজীবীও আপত্তি জানাতে পারেন।
প্রসিকিউটর তামিম জানান, অনুমতি নিয়ে কথা বলতে হবে। আমি শুনছি আপনারা কথায় কথায় আইন দেখান কেন, এটা বলেছেন। এরপর এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছি।
এ সময় পলকের উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনাল বলেন, রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন। তাই কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে বলতে হবে। তখন পলক বলেন, ‘অযৌক্তিক তো কিছু বলিনি।’
ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। কেউ কোনো কিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না।’
তখন আবারও সাক্ষ্য শুরু হয়। সাক্ষ্যের একপর্যায়ে এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন সাক্ষী মাহদী আমিন। অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসির কার্যালয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে হওয়া এক বৈঠকে জিয়াউলকে থ্রি-জি ও ফোর-জি ইন্টারনেট সেবা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জবানবন্দীর এ বাক্য নিয়ে আপত্তি জানান প্রসিকিউশন। অর্থাৎ কথাটি আলোচনা সাপেক্ষে এলেও এ মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত না বলে ব্যাখ্যা দেন তারা। একইসঙ্গে বাক্যটি বাদ দেওয়ার প্রার্থনা করেন। তখন সাক্ষীও প্রসিকিউশনের বক্তব্যে সায় দেন।
এ সময় সাক্ষীর উদ্দেশ্যে কাঠগড়ায় থাকা পলক বলে ওঠেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘একটু বসতে পারেন। কথা কম বলেন দয়া করে।’
অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুমতি চাই। প্রসিকিউটর মহোদয় সাক্ষীকে প্রশ্ন করে জবানবন্দী নিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এটা বাদ দিতে হলে হোস্টাইল করতে হবে।’
এ পর্যায়ে জবানবন্দীতে সাক্ষী উল্লেখ করেন, সারাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এনটিএমসির নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়। এ বক্তব্যটি আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। তবে সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে আমি জানি না। চালু করার বিষয়ে ২৮ জুলাইয়ের সভার মাধ্যমে জানতে পেরেছি।
পলকের হয়ে ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। আর পলাতক থাকায় জয়ের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পান আইনজীবী মনজুর আলম। তারা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগে বলা হয়, জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান পলক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া এবং হত্যায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন নিহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও রয়েছে।
চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জয়-পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ আমলে নেন একই আদালত।
মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় সাবেক এমপি হাবিবসহ ২৬ জনের বিচার শুরু : জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসানসহ ২৬ আসামীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আট আসামীর উপস্থিতিতে এদিন অভিযোগ দুটি বাংলায় পড়ে শোনান বিচারপতি নজরুল ইসলাম। অভিযোগ পড়া শেষে কাঠগড়ায় থাকা আসামীদের দোষী নাকি নির্দোষ জিজ্ঞেস করা হয়। এ সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন তারা। পরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহ, মঈনুল করিম, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন। আসামীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সুলতান মাহমুদ, আবুল হাসানসহ স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।
এদিন সকালে গ্রেপ্তার আটজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম ও তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।
সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসানসহ পলাতক অন্যরা হলেন- সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, উত্তরা বিভাগের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম. শামীম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ও তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন।
প্রসিকিউশন জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ অসুস্থ থাকায় তারিখ পিছিয়ে আজকের দিন ঠিক করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ফরমাল চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগরের উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ রয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুনরায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ চারজনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়। দুটি অভিযোগেই এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।
