আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশে গ্রামীণ মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে যোগদানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কারণে নয়, বরং তা আর্থিক সঙ্কটেরই প্রতিফলন। অক্সফামের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে' প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২০১৭-১৮ যেখানে গ্রামের মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের হার ছিল ২৪.৬%। তা ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে বেড়ে ৪৭.৬% হয়েছে। যা বিশ্বের যেকোনও অঞ্চলের তুলনায় অন্যতম দ্রুত বৃদ্ধির হার বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে এর প্রকৃত কারণ, নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়। বরং তাঁদের স্বনিযুক্তি বা 'সেলফ-এমপ্লয়েড' হওয়া। স্বনিযুক্তির মধ্যে তাঁদের নিজস্ব দোকান চালানো থেকে শুরু করে পরিবারে অবৈতনিক শ্রম দেওয়া-সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত। অক্সফামের গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামীণ নারীদের মধ্যে যারা স্বনিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত, তাঁদের হার ২০১৭-১৮ সালের ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ৭২.২ শতাংশে পৌঁছেছে। অথচ, এঁদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ নারীই আসলে পারিবারে অবৈতনিক শ্রম দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে বেতনভুক্ত চাকরিতে নিয়োজিত নারীদের হার ১১ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। একইসঙ্গে, অনিয়মিত বা দিনমজুর হিসেবে কাজ করা নারীদের হার ৩২ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশ হয়েছে।
অক্সফামের বিশ্লেষণে স্পষ্ট করা হয়েছে, নারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করলেও তাঁদের উপার্জনের নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট চুক্তি বা নিয়মিত বেতন পাওয়ার সুযোগ কমেছে। এর পরিবর্তে তাঁরা এখন তাই অবৈতনিক বা অনিশ্চিত স্বনিযুক্তিমূলক কাজেই বেশি জড়াচ্ছেন।
পাশাপাশি, নতুন সরকারি নীতি পরিবর্তনের বিষয়টিকেও উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। আগে 'মনরেগা' (MGNREGA) প্রকল্পে ৫৪% কাজের দিন মহিলাদের জন্য বরাদ্দ থাকত, যা বর্তমানে 'ভিবি-গ্রাম-জি' (VB-GRAM-G) আইন দিয়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নীতিতে কাজের সুযোগ নির্দিষ্ট ঋতুতেই সীমাবদ্ধ। মজুরির ৪০% খরচ রাজ্যগুলির ওপর চাপানো হয়েছে। এ ছাড়া, দিনে দু'বার মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জিও-ট্যাগ যুক্ত ছবি আপলোড করার শর্তটি অনেক প্রযুক্তিগতভাবে অনগ্রসর মহিলার জন্য কাজ পাওয়ার পথে নতুন বাধাও তৈরি করছে।
