মফস্বল শহরের জনদুর্ভোগ নিরসনে ফুটপাত দখল, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মীর মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশজুড়ে জেলা ও মফস্বল শহরের ক্রমবর্ধমান জনদুর্ভোগ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে উপস্থাপন করছি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে মনে করি, জনগণের অধিকার সংরক্ষণ, জনজীবনে স্বস্তি ফেরানো এবং শহরগুলোকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। এ বিবেচনায় ফুটপাত দখল ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
অধ্যাপক ড. মীর মোশাররফ হোসেন মফস্বল শহরের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন জেলা ও মফস্বল শহরের প্রধান সড়ক, মোড়, বাজার, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইঞ্জিনচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, বিশৃঙ্খল পার্কিং এবং ফুটপাত দখল করে দোকানপাট ও ফুডকার্ট পরিচালনার কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ফুটপাত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য তৈরি হলেও তা দখলে থাকায় সাধারণ মানুষ হাঁটার সুযোগ হারাচ্ছেন। এতে শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং পথচারীরা মূল সড়কে নামতে বাধ্য হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ক্ষুদ্র যানবাহনকে আয়ের উৎস স্বীকার করে তিনি বলেন, নির্বিচার নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে যানবাহনের বৈধতা যাচাই, নিবন্ধন, সুনির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এ বিশৃঙ্খলার কারণে নিবন্ধন, লাইসেন্স ও কর প্রদানকারী বৈধ যানবাহনের মালিকরাও সময় ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাই অননুমোদিত যানবাহনের ক্ষেত্রে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা জরুরি।
ফুটপাত ও সড়ক দখল করে পরিচালিত খাবারের দোকানের ক্ষেত্রে তিনি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা, ড্রেন ও নালা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধির ঘাটতি নাগরিকদের জন্য হুমকি তৈরি করছে। জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা সুরক্ষায় বিকল্প স্থান, অনুমোদিত হকার জোন, খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়ম কার্যকরের প্রস্তাব দেন তিনি।
সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ট্রাফিক বিভাগ, পৌরসভার মেয়র, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে জরিপের মাধ্যমে অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলা চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো এবং পুনর্দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সর্বশেষে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, বিষয়টি জাতীয় জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করুন। নাগরিকদের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ, নিয়মিত পরিদর্শন এবং সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব। জনগণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা এবং শহরগুলোকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতে দ্রুত, পরিকল্পিত, মানবিক ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।”
