সিঙ্গাপুর, সাংহাই, লন্ডন ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো শহরে ফোনটি কিনতে গত শুক্রবার অ্যাপল স্টোরে ভিড় করেন ক্রেতারা।
বিশ্ববাজারে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ‘আইফোন ডুয়োর’ বিক্রি শুরু হয়েছে। শুক্রবার থেকে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীনসহ বিভিন্ন দেশের অ্যাপল স্টোরে। প্রায় ২ হাজার ডলার দাম হওয়া সত্ত্বেও ফোনটি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক ক্রেতাকে অপেক্ষাও করতে হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
সিঙ্গাপুর, সাংহাই, লন্ডন ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো শহরে ফোনটি কিনতে গত শুক্রবার অ্যাপল স্টোরে ভিড় করেন ক্রেতারা। তবে আগের আইফোনগুলোর মতো দীর্ঘ সারি বা রাতভর অপেক্ষার দৃশ্য এবার তুলনামূলক কম ছিল। সরবরাহ সীমিত রাখা ও অগ্রিম অর্ডারের ওপর বিধিনিষেধ এর অন্যতম কারণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও হুয়াওয়ের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ কয়েক বছর ধরেই বাজারে দামি ফোল্ডেবল ফোন বিক্রি করে আসছে। প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের এ বাজারে অ্যাপলের প্রবেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একসময় আইফোনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে অ্যাপল পুরো স্মার্টফোনের বাজারে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। তাই ফোল্ডেবল ফোনের উদীয়মান বাজারে অ্যাপলের পদার্পণ নতুন কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কিনা, সেটিই এখন বিশ্বজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাসের জন্যও ফোনটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সম্প্রতি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই গত মাসে ফোনটি উন্মোচন করেন হার্ডওয়্যার বিভাগের সাবেক প্রধান টার্নাস।
এদিকে গত সপ্তাহে অ্যাপলের ওয়েবসাইটে অগ্রিম অর্ডার শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আইফোন ডুয়োর সম্ভাব্য সরবরাহের সময় পিছিয়ে জানুয়ারির শেষ দিকে চলে যায়। চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এ সাড়া পাওয়াকে ‘অসাধারণ’ বলেও উল্লেখ করেছে অ্যাপল।
কোম্পানিটি জানায়, সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে ক্রেতাপ্রতি সর্বোচ্চ দুটি ফোনের অগ্রিম অর্ডার নেয়া হয়েছে। এছাড়া কিছু দেশের দোকানে সরাসরি গিয়ে ফোন কেনার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।
অ্যাপলের নতুন ফোনটির নকশা ও ভাঁজ করার সংযোগস্থল বা হিঞ্জের প্রশংসা করেছেন প্রযুক্তি পর্যালোচকরা। সাধারণ ফোল্ডেবল ফোনে পর্দার মাঝখানে ভাঁজের দাগ স্পষ্ট থাকে। আইফোন ডুয়োতে সেটি প্রায় অদৃশ্য।
তবে ক্যামেরা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। ফোনটিতে টেলিফটো লেন্স নেই। পাশাপাশি বড় পর্দার উপযোগী করে তৃতীয় পক্ষের অনেক অ্যাপ এখনো পুরোপুরি সাজানো হয়নি।
ফলে কিছু ক্রেতা প্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা নাও পেতে পারেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফোনটি ভাঁজ করা অবস্থায় দৈনন্দিন কিছু কাজের জন্য তুলনামূলক কম সুবিধাজনক। তাই সাধারণ আইফোন ব্যবহারকারীদের সবার জন্য এটি উপযুক্ত নাও হতে পারে। তবে ফোন ও ট্যাবলেটের সুবিধা একই যন্ত্রে পাওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছে আকর্ষণীয়।
