বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে সেদিন প্রাণ হারান ৩৩ জন, যাদের মধ্যে ছিলেন একই পরিবারের সাতজন। ঠিক ১২ বছর পর একই দিনে নাটোরে আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৪ জনের।
২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর। বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে সেদিন প্রাণ হারান ৩৩ জন, যাদের মধ্যে ছিলেন একই পরিবারের সাতজন। ঠিক ১২ বছর পর একই দিনে নাটোরে আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৪ জনের।
আজ মঙ্গলবার ভোরে ৪টার দিকে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের সরদারপাড়া এলাকায় ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ প্রাণহানি ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন।
এক যুগের ব্যবধানে একই দিনে দুই বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা নাটোরের মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে। দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের তৎপরতা বাড়লেও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা জানান, ব্যস্ততম বনপাড়া-হাটিকুমরুল ও বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নাটোর জেলায় ৩৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৬৬ জন।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী বুলবুল আহমেদ বলেন, বনপাড়া-হাটিকুমরুল ও বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কসহ নাটোরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। এসব সড়কের প্রতিটিই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে নিয়মিত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
বড়াইগ্রামের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী রতন আলী বলেন, মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি কমেছে। আগে ফিটনেসবিহীন যানবাহন শনাক্ত, গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত অভিযান চালানো হতো। এখন এসব কার্যক্রম কমে গেছে বলে তার অভিযোগ। পাশাপাশি মহাসড়কে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। নিয়মিত অভিযান ছাড়া দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।
হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া রিজিয়নের পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম বলেন, পূজার ছুটির কারণে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। এ ছাড়া বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর বিষয়টিও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রায়ই দেখা যায়। মহাসড়ক নিরাপদ করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।
