Published on
:
2 min read
সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটনি, কায়িক পরিশ্রম কিংবা মানসিক চাপের পরে অনেকেরই ইচ্ছে হয় অন্ধকার ঘরে একটু চুপচাপ বসে থাকতে। তীব্র আলো, মোবাইল স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, কোলাহল আর পারিপার্শ্বিক নানা ব্যস্ততা মস্তিষ্ককে সবসময় সজাগ রাখে। এর বিপরীতে অন্ধকার বা মৃদু আলোর ঘরে বসার অর্থ হলো বাহ্যিক উত্তেজনা বা স্টিমুলেশন থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়া। কিন্তু এই অভ্যাস কি নিছকই আরাম, এর নেপথ্যে লুকিয়ে?
সারাদিনের ব্যস্ততার পরে অন্ধকার ঘরে স্বস্তি খোঁজার এই প্রবৃত্তিটিকে চিকিৎসা পরিভাষায় ‘নিক্টোফিলিয়া’ বলা হয়। তবে মনোবিদরা বলছেন, এটিকে সেই অর্থে মানসিক রোগের পর্যায়ে ফেলা যায় না। বরং এটি হলো রাত বা অন্ধকারকে ভালোবাসার একটি বর্ণনামূলক শব্দবন্ধ। মৃদু আলো বা শান্ত পরিবেশে সময় কাটানোর অর্থ এই নয় যে আপনার মানসিক কোনও সমস্যা রয়েছে।
অধিকাংশ মানুষই রাতের সময়টিকে নিজের মতো করে কাটাতে পছন্দ করেন। কারণ, এই সময়ে চারপাশের কথোপকথন, ফোনের নোটিফিকেশন, কাজের তাড়া বা মানুষের প্রত্যাশা অনেকটাই কমে যায়। অন্ধকার অনেক সময় মানুষের মধ্যে এক ধরনের গোপনীয়তার অনুভূতি তৈরি করে, যা মানসিক ও ইন্দ্রিয়গত অবসাদ বা ‘সেন্সরি ডিকম্প্রেশন’ দূর করতে সাহায্য করে। একসঙ্গে অনেকগুলো ভিস্যুয়াল বা দৃশ্যমান বিষয় প্রক্রিয়াজাত না করে কয়েক মিনিট নিঃশব্দে কাটালে মাথার উপর অতিরিক্ত চাপের অনুভূতি অনেকটাই হালকা হয়ে যায়। বিশেষ করে একটি মানসিক দিক থেকে ক্লান্তিকর দিনের পর শান্ত পরিবেশ তৈরি করার সহজ উপায় হলো এই অন্ধকার।
ডার্কনেস প্রেফারেন্স বনাম সামাজিক দূরত্ব: ফারাক কোথায়?
অন্ধকার পছন্দ করা আর সামাজিক জীবন থেকে পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম অথচ গভীর পার্থক্য রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই পার্থক্য লুকিয়ে থাকে মানুষ কেন অন্ধকারে আশ্রয় খুঁজছে এবং তার জীবনের উপর এর কী প্রভাব পড়ছে তার উপর।
নিজেকে যাচাই করার উপায়: নিজেকে প্রশ্ন করুন—‘আমি কি কেবল মানসিক শান্তির জন্য অন্ধকার বেছে নিচ্ছি এবং আমার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যোগাযোগ বজায় রাখছি? নাকি বাইরের জগৎ সামলাতে কষ্ট হচ্ছে বলেই আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি?’
কখন সতর্ক হওয়া উচিত: কেউ যদি ধীরে ধীরে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলেন, আগে যে কাজগুলো ভালো লাগত তাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, সবসময় মন খারাপ বা উদ্বেগে থাকেন কিংবা কেবল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকলেই স্বস্তি পান, তবে এটি গভীর মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোনও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অন্ধকার নিজে থেকে কোনও ভাবে চাপ দূর করতে পারে না, কিন্তু এর ভিতরের নীরবতা, কম উদ্দীপনা এবং ব্যক্তিগত বা প্রাইভেসি পাওয়ার অনুভূতি অনেককে মানসিক ভাবে রিচার্জ করতে সাহায্য করে। স্নায়ু শিথিল হলে আর মেলাটোনিন ক্ষরণের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলে অনিদ্রাজনিত সমস্যাও খানিকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।