নিম্নচাপ থেকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা। যার জেরে ওড়িশা উপকূল ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ন্যূনতম ১১৫-১২৫ কিলোমিটার গতিবেগে। সর্বোচ্চ সেই গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার, যার প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলেও।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত নিম্নচাপ যার জেরে তৈরি হতে পারে ঘূর্ণিঝড়। হাওয়া অফিসের তরফে দক্ষিণ ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল ও উপকূল সংলগ্ন এলাকার জন্য আগাম জারি করা হওয়া হয়েছে সতর্কবার্তা।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের বিজয় পুরমের উতর-উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ৫১০ কিলোমিটার, পার্শ্ববর্তী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে ৮২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নিম্নচাপ। ওই নিম্নচাপ থেকে তৈরি হবে গভীর নিম্নচাপ। ধীরে ধীরে সেই গভীর নিম্নচাপ এগিয়ে আসবে দক্ষিণের দিকে।
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে রবিবার পূর্ব মধ্য ও দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে ধীরে ধীরে বাঁক নিতে নিতে গভীর নিম্নচাপ এগিয়ে যাবে পশ্চিম- উত্তর পশ্চিমের দিকে। সোমবার সকাল থেকে পূর্ব মধ্য ও পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে ওই নিম্নচাপ পরিণত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে। মঙ্গলবার সকালে পশ্চিম- মধ্যে ওই ঘূর্ণিঝড় হয়ে উঠবে ‘তীব্র’। ক্রমশ ওই ঘূর্ণিঝড় উত্তর পশ্চিমে এগিয়ে যেতে যেতে তীব্র থেকে হয়ে উঠতে পারে তীব্রতর। বুধবার সকালে ঘূর্ণিঝড় অবস্থান করবে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল সংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে। মনে করা হচ্ছে, বুধবার সকালেই অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল পেরনোর সময়েই ঘূর্ণিঝড় হয়ে উঠবে ‘অতি তীব্র’। সেই সময়ে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১৫-১২৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ এই গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারও।
মঙ্গলবার থেকেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রযাত্রার ক্ষেত্রে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। যাঁরা গিয়েছেন মঙ্গলবারের আগেই তাঁদের ফিরে আসার জন্য বলা হয়েছে।
