কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশের দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আটক দুই সদস্য সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। শিগগিরই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিজিবি সদর দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিএসএফের সঙ্গে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। আটক দুই পুলিশ সদস্য সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ানকে দ্রুত ফেরত পাওয়ার বিষয়ে বিজিবি আশাবাদী। তারা সুস্থ আছেন এবং তাদের কোনো সমস্যা হয়নি।
বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, ব্রাহ্মণপাড়া থানার শশীদল সীমান্তে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই এলাকার পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেরা ভূপ্রকৃতির কারণে সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষা করা বিজিবির প্রধান দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বাহিনী এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্তের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশের স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বাহিনী ভবিষ্যতেও দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থাকা রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজিবির এই কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি। তবে তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে সব ধরনের হুমকি ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে। অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যেকোনো পরিস্থিতিতে কার্যকর সমাধানের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি কাজ করবে।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিজিবির নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সারাদেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই দায়িত্ব চলবে।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ২১টি বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া পূজার সময় গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সংবেদনশীল তথ্য প্রচারের আগে তা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্প, প্রশাসন বা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন।
ব্রিফিংয়ে সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে বিজিবির চলমান অভিযান, মানব পাচারবিরোধী কার্যক্রম এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়েও তথ্য তুলে ধরা হয়।
তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ পিসের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ, ১২ কেজি হেরোইন ও কোকেন, ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ২৪ হাজার বোতল ফেনসিডিল এবং প্রায় ১ লাখ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, সাতটি রাইফেল, একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), সাতটি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২০০ রাউন্ডের বেশি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
