ষষ্ঠী থেকে দশমী—বাঙালির দুর্গোৎসব মানেই আলো ঝলমলে প্যান্ডেল, রাতজাগা, আড্ডা, আর জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু এই আনন্দ উৎসবের ভিড়ে অনিয়মের ধাক্কা এসে লাগে সোজা শরীরের উপরে। সারাদিন প্রচুর হাঁটার ফলে পায়ে ও গোড়ালিতে ব্যথা, বাইরের মশলাদার খাবারে হজমের গোলমাল, জলশূন্যতা এবং ক্লান্তি— এ সবই জাঁকিয়ে বসা খুবই সাধারণ ঘটনা। কিন্তু পুজোর আনন্দ মাটি হলে তো চলবে না। তাই ভূরিভোজও জমুক, ঘোরাঘুরিও চলুক, কেবল শরীর সুস্থ রাখতে পাঁচটি নিয়ম মেনে চলা খুব জরুরি।
রাস্তার খাবার বুঝে খান
রাস্তা থেকে জল, শরবত, নরম পানীয় কিনে খাবেন না। এই সময়ে ডায়ারিয়া, আন্ত্রিক বেশি ছড়ায়। তাই সতর্ক থাকতেই হবে। হোটেল-রেস্তরাঁর খাবার সবসময়ে স্বাস্থ্যসম্মত না-ও হতে পারে। তাই বুঝে খাবেন। শিশুকে নিয়ে বেরোলে ভুলেও রাস্তার খাবার কিনে দেবেন না। আইসক্রিম তো নয়ই।
জল খান পর্যাপ্ত
শরীর আর্দ্র রাখতেই হবে। এই সময়ে খাওয়াদাওয়ায় নিয়ম থাকবে না তেমন, তাই জল খেতে হবে পর্যাপ্ত। জল কম খেলে এক দিকে যেমন হজম ঠিকমতো হবে না, তেমনই পেশির ক্লান্তি বাড়বে। অল্প হেঁটেই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। দিনে অন্তত ৩ লিটার জল খেতেই হবে।
বদহজম এড়াতে ডিটক্স পানীয়
বাড়িতে ভূরিভোজ, রাস্তায় বেরোলে তেলমশলা দেওয়া খাবার খাওয়া হবেই। তাই বদহজম যাতে না হয়, সে কারণে রোজ সকালে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেতে হবে কিছু ডিটক্স পানীয়। এই পানীয়ই শরীর থেকে টক্সিন বার করবে এবং হজমের সমস্যা হতে দেবে না। সবচেয়ে পরিচিত ডিটক্স পানীয় হল ঈষদুষ্ণ জলে লেবুর রস। গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থাকলে অথবা আলসার থাকলে, এই পানীয় খাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে জলে শসার টুকরো ও বিভিন্ন রকম লেবু যেমন, কমলালেবু, বাতাবিলেবু বা মুসাম্বির টুকরো মিশিয়ে সেই জল পান করতে পারেন। পুদিনাপাতা, ধনেপাতা, মশলার মধ্যে আদা, দারচিনি, গোটা হলুদ, লবঙ্গ ইত্যাদি ভিজিয়েও ডিটক্স পানীয় তৈরি করে খেতে পারেন।
পায়ে ব্যথা কমাতে
রাতে বাড়ি ফিরে উষ্ণ জলে সামান্য নুন মিশিয়ে তাতে পা ১৫-২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এটি পেশির প্রদাহ ও ক্লান্তি দূর করবে। শোয়ার সময় পায়ের নীচে একটি বালিশ দিয়ে পা সামান্য উঁচুতে রাখুন যাতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম
পুজোর সময়ে নিয়ম করে ব্যায়াম বা জিমে যাওয়া হয় না। তাই বাড়িতেই হালকা শারীরচর্চা করুন। প্রতি দিন ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা থাকলে স্ট্রেচিং, কিছু ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম নিয়মিত করুন। বাড়িতেই করুন স্পট জগিং, লেগ রেজ়, স্কোয়াট, তাতেও পায়ের জোর বাড়বে। প্রাণায়াম, শ্বাসের ব্যায়াম করলেও তরতাজা থাকবেন। রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমোতে হবে। বেশি রাত জাগলে ক্লান্তি আরও বাড়বে।
সংক্ষেপে
- পুজোর আর মাত্র হাতেগোনা কয়েক দিন বাকি। এই সময়ে সমাজমাধ্যম জুড়ে একের পর এক ‘ক্র্যাশ ডায়েট’, দামি সাপ্লিমেন্ট আর কিটো ডায়েটের বিজ্ঞাপন। তাতে কি সত্যিই ওজন ঝরে?
- পুজো মানেই খুদের বায়না, নতুন জামা পরে ঠাকুর দেখতে যাওয়া। কিন্তু এই সময়ের ভ্যাপসা গরম, হঠাৎ বৃষ্টি আর ভিড়ের ধকল ছোট শরীরে সহজেই অসুখ ডেকে আনতে পারে। তাই আনন্দের মাঝে যেন সে অসুস্থ হয়ে না পড়ে, সে জন্য আগেভাগেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
- পুজোর আগে রোগা হবেন, এই ভাবনা যাঁদের মাথায় এসেছে, তাঁদের জন্য সঠিক ফিটনেস রুটিন প্রয়োজন। অল্প সময়ে ক্লান্তি ব্যতিরেকে নিজেকে ফিট ও ছিপছিপে করে তুলতে কিছু সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর রুটিনই হতে পারে আপনার সেরা হাতিয়ার।
আরও পড়ুন
