শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী এলাকার ৮৬টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। এসব পূজামণ্ডপের মধ্যে ৬৪টি আন্তর্জাতিক সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিজিবি। এর আওতায় দিনাজপুর শহরের ২২টি, বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ৪১টি পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুর্গাপূজা চলাকালে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সবাইকে গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিজিবির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা আগামী ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
