Published on
:
2 min read
এই সময়, বীজপুর, কুলপি ও বনগাঁ: বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বীজপুর, নৈহাটি ও নোয়াপাড়ার পলতায় সিপিএমের তিনটি বুকস্টল ভাঙচুর এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। সিপিএমের বইয়ের স্টল তৈরিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়ায় কুলপি বাসমোড়ের কাছে। অভিযোগ, কুলপি বাসস্ট্যান্ডের কাছে পুজো উপলক্ষে সিপিএমের একটি বইয়ের স্টল তৈরির সময়ে একদল যুবক এসে বাধা দিলে বচসা বাধে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে হামলাকারীরা নির্মীয়মাণ বইয়ের স্টলটি ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে ইতিমধ্যেই কুলপি থানায় অভিযোগ জানান স্থানীয় সিপিএম নেতারা। বিকেলে ফের স্টলটি তৈরি করা হয়। সিপিএমের কুলপি এরিয়া কমিটির সম্পাদক অজয় পুরকাইত বলেন, ‘বিজেপির ছেলেরাই এই তাণ্ডবের পিছনে রয়েছে।’ মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতা অশোক পুরকাইত বলেন, ‘বিজেপির কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মন্তব্যের জেরে সাধারণ হিন্দুরা প্রতিবাদ জানিয়েছে।’ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বীজপুরের পানপুরে গ্রামীণ এলাকায় সিপিএমের বুকস্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। নৈহাটির চারাপোলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থাকা বুকস্টলে মাঝরাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই কায়দায় নোয়াপাড়ার পলতা শান্তিনগরেও এরিয়া কমিটির অফিসের সামনে তৈরি বুকস্টল তছনছ করে দেওয়া হয়।শুক্রবার সকালে পলতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্টলে যান সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য গার্গী চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আইন মেনে অনুমতি নিয়েই স্টল হয়েছিল। ক্ষমতা থাকলে দিনের আলোয় সামনে এসে ভাঙত।’ পাল্টা সুর চড়িয়ে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের সাফ বক্তব্য, ‘যাঁরা সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করেন না, দুর্গাপুজো মানেন না, উৎসবের সময়ে তাঁদের স্টল দেওয়ার অধিকার কোথায়? এদের কোথাও বুকস্টল করতে দেওয়া হবে না।’
বনগাঁর বাটার মোড় সংলগ্ন যশোহর রোডের ধারে সিপিএমের পার্টি অফিসের সামনে প্রতি বছরের মতো এ বারও বুক স্টল করার জন্য দিন সাতেক আগে বাঁশের খুঁটি পোঁতার কাজ শুরু হয়েছিল। এর বিরোধিতা শুরু করে বনগাঁর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীরা। বাম কর্মীদের মারধরের অভিযোগও ওঠে। এ দিন হাইকোর্টের নির্দেশের পর বনগাঁ সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুমিত কর বলেন, ‘আমরা যেখানে বুক স্টল করব ঠিক করেছিলাম, সেখানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীরা অস্থায়ী কাঠামো গড়েছে। শহরের পূর্ত দপ্তরের জায়গায় আরও অনেকেই অনুমতি ছাড়া অস্থায়ী কাঠামো রয়েছে। পুলিশ সেগুলো ভাঙে কি না, সে দিকে আমরা নজর রেখেছি।’ বনগাঁ সংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি নৃপেন বিশ্বাস বলেন, ‘কোর্টের রায় সকলের মানা উচিত।’
