পাঁচ সদস্যের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় (প্রতীকী চিত্র)
Published on
:
2 min read
গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। ঘটনায় উঠে আসছে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের তথ্য। মৃত্যুর আগে মৃত তরুণের মোবাইলে রেকর্ড করা একটি ভয়েস নোটে ঘুরে গিয়েছে তদন্তের অভিমুখ। ওই অডিয়োতে নিজের দুই বোন ও এক ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মৃত মহেশ। দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিবাদের জেরে পরিবারটি মানসিক চাপে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই তিন আত্মীয়কে আটক করা হয়েছে। মহেশের শ্যালকের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছে। তবে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারও অপরাধমূলক ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
শনিবার সকালে গ্রেটার নয়ডার রাবুপুরা এলাকার নগলা শ্রী পদম গ্রামের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় দম্পতি মহেশ-ললিতা-সহ তাঁদের তিন সন্তান — লাড্ডু (১১), মিষ্টি (৭) ও সাক্ষাৎ (৩)-এর নিথর দেহ। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তদন্তে নামে পুলিশ। মৃত তরুণের মা জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর আগের রাতে তাঁরা চা ও নুডলস খেয়েছিলেন ডিনারে। প্রথমে খাদ্যে বিষক্রিয়া কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। এর পরেই বাকি তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করতে গিয়েই তদন্তকারীদের হাতে আসে মহেশের ভয়েস নোট।
ওই ভয়েস নোটে কী বলেছিলেন মহেশ?
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত্যুর আগে নিজের মোবাইলে একটি ভয়েস নোট রেকর্ড করেছিলেন মহেশ। তাতে তাঁর দুই বোন ও এক ভগ্নিপতিকে পরিবারের দুর্গতির জন্য দায়ী করেছেন তিনি। ওই রেকর্ডিং এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। পাশাপাশি, মহেশের শ্যালকের অভিযোগ, ওই আত্মীয়েরা মহেশ ও তাঁর পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হেনস্থা করছিলেন। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তিন আত্মীয়কে আটক করেছে পুলিশ।
কী ভাবে সামনে এল রহস্যমৃত্যুর ঘটনা?
শনিবার সকালে মহেশ-ললিতার সন্তানেরা স্কুল না যাওয়ায় তাঁদের এক বন্ধু খোঁজ নিতে বাড়িতে আসে। ভিতর থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে সে দেওয়াল টপকে বাড়িতে ঢোকে। তখনই পরিবারের সদস্যদের নিথর অবস্থায় দেখতে পায় সে। ভয়ে সে অভিভাবকদের জানালে, তারা পুলিশকে খবর দেন।
প্রাথমিক ভাবে খাবারে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। কারণ, আগের রাতে পরিবারের সদস্যেরা চা ও নুডলস খেয়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে ময়নাতদন্তে বিষক্রিয়ার লক্ষণ মিলেছে। পাঁচ জনের দেহের ভিসেরা নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। মহেশের ভয়েস নোট, আত্মীয়দের অভিযোগ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল মিলিয়ে ঘটনার জট খোলার চেষ্টা চলছে।
