রেলওয়ের দখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে দ্রুত দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ মঙ্গলবার নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, ‘সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় ২ হাজার ৪০০টি আবাসন রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯০০টিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকেন। এখানে আবাসনের কোনো সংকট নেই। মূলত পুরোনো ভবনের জন্য সরকারিভাবে যে হারে ভাড়া কাটা হয়, তার চেয়ে কম খরচে বাইরে ভালো বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। এ কারণেই অনেকে রেলওয়ের আবাসনে থাকতে আগ্রহী হন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমি পৌরসভার দখলে রয়েছে। এসব জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আজকের সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে রেলের এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এসব জমি ব্যবহার করতে চাই। এজন্য জমিগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। রেলওয়ের যত জমি অবৈধ দখলে রয়েছে, তার সবই চিহ্নিত করে মুক্ত করা হবে।’
রবিউল আলম বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন করে যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে। রেলযাত্রার ঐতিহ্য ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এ খাতের পরিসর আরও বাড়ানো দরকার। এটি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারও ছিল। রেলওয়ের দুটি কারখানাকে কীভাবে এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তা দেখতেই আমি সৈয়দপুরে এসেছি। পরিদর্শনকালে কারখানার নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা জেনেছি। পাশাপাশি কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি সরাসরি দেখেছি এবং সেগুলোর মান পরীক্ষা করেছি।
কারখানায় কোচ মেরামতের মান আরও উন্নত করার ওপর জোর দিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কিছু পুরোনো মেশিন রয়েছে, যেগুলোর মান এখনো বেশ ভালো। বর্তমানে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচ মেরামত করে পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’
রেলওয়ে হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রেলওয়ের নিজস্ব অর্থায়নে হাসপাতাল পরিচালনা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স দিয়ে সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। দেশের প্রায় ৯টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবিরসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
