ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মৎস্য অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত জেলেদের ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম, প্রকৃত জেলেদের পেশা পরিবর্তন করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং মৃত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চরভদ্রাসন উপজেলার চারটি ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ৬৫৪ জন জেলে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে চরভদ্রাসন ইউনিয়নে ১৭৯ জন, গাজীরটেক ইউনিয়নে ১৮৯ জন, চরহরিরামপুর ইউনিয়নে ২৯৩ জন এবং চরঝাউকান্দা ইউনিয়নে ১৩৯ জনসহ মোট ৮০০ জন জেলেকে বরাদ্দের চাল দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া চাল বিতরণের তালিকা তৈরিতে কিছু ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রকৃত জেলে হওয়া সত্ত্বেও অনেকে চালের সুবিধা পাচ্ছেন না। আবার তালিকাভুক্ত কয়েকজনের পেশা পরিবর্তন করে ব্যবসায়ী বা প্রবাসী দেখানো হয়েছে, কাউকে কাউকে মৃত দেখানো হয়েছে।
চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোস্তফা এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য তাসলিমার বিরুদ্ধে তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, প্রকৃত জেলে তোতা মীরমালতের ছেলে হাফিজুল মীরমালত ও শেখ মঙ্গলের ছেলে শেখ খালেককে মৃত দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে শেখ চাদুল্লার ছেলে শেখ মাসুদকে ব্যবসায়ী এবং শেখ লাল মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমানকে প্রবাসী দেখিয়ে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কামরুল বেপারী ও শেখ বিল্লালের পেশা পরিবর্তন করে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাহা মোল্লার ছেলে আক্তার মোল্লার নাম মাস্টার রোলে থাকা সত্ত্বেও তিনি টানা তিন বরাদ্দে চাল পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তফা মুঠোফোনে বলেন, চেয়ারম্যানের ইচ্ছায় এসব করা হয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। সংরক্ষিত নারী সদস্য তাসলিমার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরভদ্রাসন ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য জানান, মৎস্যজীবী নেতাদের উপস্থিতিতে কিছু মৎস্যজীবীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মৎস্য অফিসের কিছু কর্মীর যোগসাজশে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, সুবিধাভোগী জেলেদের মাস্টার রোলের তালিকা ইউপি সদস্যরা তৈরি করে দেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব বলেন, “সুবিধাভোগীদের তালিকা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রণয়ন করা হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। তালিকাভুক্ত জেলেদের পেশা পরিবর্তন বা মৃত দেখানোর তালিকা প্রণয়ন মৎস্য অফিসের কাজ নয়।” ভুক্তভোগীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত জেলেদের তালিকা যাচাই এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
The post চরভদ্রাসনে মৎস্য তালিকা ভুক্তজেলেদের চাল বিতরন অনিয়ম appeared first on ভোরের চেতনা.
