ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক বাপ্পি চৌধুরী, ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবির মাধ্যমে শুরু হয়েছিল যার অভিনয়যাত্রা। সে যাত্রা এখনও চলমান। তবে তা অনেকটাই ধীরগতিতে। কিন্তু কেন এই ধীরগতি? অভিনয়ের বাইরে এখন কী করছেন বাপ্পি চৌধুরী? পূজার সময়টা কেমন কাটে তার? এমনই আরও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেতে ‘তারকা সময়’-এর পক্ষ থেকে বাপ্পি চৌধুরীর সঙ্গে
কথা বলেছেন ইকবাল খন্দকার
পূজার দিনগুলো আগে কেমন কাটত, এখন কেমন কাটে?
পূজার দিনগুলো আগে দারুণ কাটত, এখনও দারুণ কাটে। তবে হ্যাঁ, একটু পরিবর্তন তো এসেছেই। যেমন, আগে প্রচুর নাচানাচি করতাম। বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড় করতাম। এখন বলতে পারেন কিছুটা সংযত হয়ে গেছি। অথবা আনন্দের বহিঃপ্রকাশে ভিন্নতা এনেছি।
পূজার দিনগুলোতে রোমান্টিক ঘটনা ঘটে। আপনার অভিজ্ঞতা শুনতে চাই।
অভিজ্ঞতা রোমাঞ্চকর। যেহেতু সত্যিকার অর্থেই রোমান্টিক ঘটনা ঘটত। একটা ঘটনার কথা বলি। এক মেয়ে আমার সঙ্গে একটু কথা বলার জন্য চারটি পূজামণ্ডপ ঘুরেছিল। এখানে বলে রাখি, তখনও কিন্তু আমি সিনেমায় আসিনি। দেখতে শুনতে একটু ভালোই ছিলাম তো! তাই হয়তো আমাকে ওর ভালো লেগেছিল। আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, পূজায় প্রচুর প্রেমের অফার পেতাম।
এই মুহূর্তে কী করছেন?
আমাদের পারিবারিক ব্যবসা আছে। সেই ব্যবসা দেখাশোনা করছি। তবে সিনেমার মানুষ যেহেতু, সিনেমার পোকা তো মাথায় আছেই। আপাতত পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। সময়মতো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দর্শক দেখতে পাবেন।
‘ভালোবাসার রঙ’ ছবিটিকে বলা হয় বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল সিনেমা। আর সেই সিনেমার নায়ক আপনি। কাজ করতে কি আলাদা কোনো প্রস্তুতির দরকার হয়েছিল?
পরিচালক আমাকে যা করতে বলেছেন, আমি তা-ই করেছি। এর বাইরে কিছু করার সুযোগ আমার ছিল না। থাকা উচিতও না। আর আমি সিনেমায় এসেই যেহেতু ওই ফরম্যাটটা পেয়েছিলাম, তাই আমার কাছে ওটাই নরমাল মনে হয়েছিল। তাই আলাদা কোনো প্রস্তুতির দরকার হয়নি।
প্রথম ছবির শুটিংয়ের দিনগুলো আসলে কেমন ছিল?
এককথায় অসাধারণ। তবে আমি যেটা করতাম, আমার সিনেমার শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে অন্যদের সিনেমার সেটে চলে যেতাম। সাধারণ দর্শকের মতোই তাদের শুটিং দেখতাম। আমার ভালো লাগত। অনেক কিছু শেখাও যেত।
প্রথম সিনেমায় অনেকগুলো রোমান্টিক দৃশ্য ছিল। সেসব দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে কোনোরকম দ্বিধা বা অস্বস্তি কাজ করত কি? যেহেতু আপনি নতুন ছিলেন?
না, কোনো দ্বিধা বা অস্বস্তি কাজ করত বলে আমার মনে পড়ে না। কারণ, আমি খুব সহজে কাজের ভেতরে ঢুকে যেতে পারি। তখনও পেরেছি। আর এ জন্যই মনে হয়েছে, এটা আমার কাজ। শুটিংয়ের অংশ। অতএব কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে। ব্যস।
আপনার প্রথম ছবিটি দর্শক গ্রহণ করেছিল। এরপর আপনি আরও কিছু ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন। এর কৃতিত্ব আপনি কাকে দেবেন?
প্রথম কৃতিত্বটা আমি অবশ্যই পরিচালককে দেব, পরিচালকদের দেব। কারণ, তারা আমার কাছ থেকে কাজগুলো আদায় করে নিতে পেরেছেন। আর একটু কৃতিত্ব তো আমারও প্রাপ্য। কারণ, আমি ভালো ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম। মোটকথা, দর্শক কোনটা পছন্দ করেন বা করতে পারেন, সেটা ধরতে পেরেছিলাম।
সিনেমায় কাজের পাশাপাশি অনেকেই নাটক-টেলিফিল্মে কাজ করেন। ওয়েব সিরিজ করেন। কিন্তু আপনি শুধু সিনেমায়ই কাজ করেছেন এবং করবেন বলে জানিয়েছেন। কেন?
আমি শুধু সিনেমাটাই করতে চেয়েছি, সিনেমাটাই করতে চাই। এককথায় যদি বলি, সিনেমার হিরো হয়েই থাকতে চাই। আর ওয়েব সিরিজে কাজের কথা যেটা বললেন, এখন এই জায়গাটায় ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। তবু আমার কেন যেন করা হয়ে ওঠেনি। বলতে পারেন আমি সিনেমার হিরো হয়ে থাকতে চেয়েছি বলেই অন্য কোনো মাধ্যমে যাওয়া হয়নি। এটাও বলতে পারেন, আমাকে কেউ নিতে পারেনি।
কাছাকাছি সময়ে আপনার নতুন কোনো সিনেমার খবর পাওয়ার সম্ভাবনা আছে?
জি, আগামী বছর সম্ভাবনা আছে। তার মানে আমাকে যারা পছন্দ করেন, আমার সিনেমা দেখতে হলে যান, তাদের আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। আর অপেক্ষার ফল মিষ্টিই হয়।
সিনেমার বাইরে আর কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
আছে। আমি একটা এনজিও প্রতিষ্ঠা করতে চাই। স্বাস্থ্যবিষয়ক এনজিও। অর্থাৎ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়েজিত করতে চাই। এর বাইরেও বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে, তবে সেগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে। যে কারণে এই মুহূর্তে প্রকাশ না করাই ভালো। পরিকল্পনাগুলো আরেকটু গোছাই। তখন না হয় প্রকাশ করা যাবে।
