ময়নাগুড়ি সুপার স্পোর্টিং ক্লাব পরিচালিত পুজো কমিটির এ বারের চমক রামমন্দিরEi Samay
Published on
:
2 min read
অর্ঘ্য বিশ্বাস ও বাসুদেব ভট্টাচার্য
অযোধ্যার রামমন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করে এ বারের পুজোয় সকলের নজর কাড়তে চলেছে ময়নাগুড়ি সুপার স্পোর্টিং ক্লাব পরিচালিত হাসপাতালপাড়া সর্বজনীন দুর্গা ও কালীপুজো কমিটি। রামমন্দিরে যেমন প্রবেশদ্বার আছে, তেমনিই গেট করা হচ্ছে দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য। ধূপগুড়ির শিল্পী দেবু পালের শিল্পকলায় ফুটে উঠছে রাম মন্দির। মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ, প্লাইউড, ফোম, ফাইবার। ফাইভার দিয়ে তৈরি হচ্ছে মন্দিরের পিলার, যা দর্শকদের নজর কাড়বে।
চলতি বছর ৬৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে এই পুজো। তবে শুধু দুর্গাপুজো নয়, ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই উপলক্ষে বেশ কিছু সামাজিক কাজও করবেন। অনগ্রসর শ্রেণির ৬০ জন পড়ুয়ার হাতে তুলে দেওয়া হবে শিক্ষাসামগ্রী। ৫০ জন কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন রকমের কৃষিযন্ত্র। এর পাশাপাশি দুঃস্থ মহিলাদের মধ্যে কাপড় ও শীতবস্ত্র বিলি করা হবে। প্রত্যন্ত গ্রামের একাধিক ক্লাবের হাতে তুলে দেওয়া হবে অক্সিজেন সিলিন্ডার। হঠাৎ করে এই চিন্তা কেন? পুজো কমিটির সম্পাদক রাজদীপ বর্ধন জানিয়েছেন, গ্রামে হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অক্সিজেন জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয় পরিবারের লোকজনের।
সেই বিষয়টি মাথায় রেখে গ্রামে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিলি করার কথা চিন্তা করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'মোবাইলে আসক্ত যুব সমাজকে ফিরিয়ে আনতে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনের র্যাকেট। ৩০ জন বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ট্রাই সাইকেল এবং ক্র্যাচ তুলে দেবেন ক্লাব সদস্যরা। ৩০ জন দুঃস্থ, বৃদ্ধ বিধবাদের এক মাসের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কথা মাথায় রেখে ৫০০টি চারাগাছ বিতরণ করা হবে। সাফাই কর্মীদের গ্লাভস, ডাস্টবিন, মাস্কও দেওয়া হবে।'
পুজো কমিটির সভাপতি কল্লোল রায় বলেন, 'এ বছরই প্রথম মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন স্থানীয় এবং বহিরাগত শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।' পঞ্চমীতে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের হাত দিয়ে পুজোর উদ্বোধন হবে। পুজো কমিটির সদস্য বাবলা ঘোষ, বিক্রম গুহ ও সুদীপ সেনগুপ্ত বলেন, 'আমরা প্রতি বছরই নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।
এ বার রাম মন্দিরের টানে দূর দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের ঢল নামবে। অষ্টমীর দিন মহাভোগের আয়োজন থাকছে শহরবাসীর জন্য।' ময়নাগুড়ি হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা ঘোষের কথায়, 'এক বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকি আমরা। হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দাদের কাছে এই পুজো অনেক আবেগের।'