বয়স হলেই যে জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যায় না, ভুবনেশ্বর কুমারকে দলে ফিরিয়ে সেই বার্তাই দিয়েছেন ভারতীয় দলের নির্বাচকেরা। ১৪২৫ দিন পর টিম ইন্ডিয়ায় ফিরেও বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পাননি ভুবি। তাঁর প্রত্যাবর্তনে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা একাধিক ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মহম্মদ শামি। যদিও নিউজিল্যান্ড সফরে সুযোগ মেলেনি তাঁর। যা নিয়ে চর্চাও জারি। এ হেন পরিস্থিতিতে শামি নন, কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর ভারতীয় দলে ক্রুণাল পাণ্ডিয়াকে ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করলেন।
সম্প্রচারকারী চ্যানেলের এক অনুষ্ঠানে ক্রুণালের ভূয়সী প্রশংসা করেন সানি। তাঁর মতে, শুধু দক্ষতা নয়, ক্রিকেটীয় বুদ্ধির নিরিখেও জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য ক্রুণাল। গাভাসকরের কথায়, “ক্রুণাল অসাধারণ এক ক্রিকেটার। ক্রিকেট নিয়ে ওর বুদ্ধি ও চিন্তাভাবনা দেশের অন্যতম সেরা। ওর বোলিং দেখলেই তা বোঝা যায়।” ক্রুণালের বোলিং নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, “হয়তো ও খুব বড় মাপের স্পিনার নয়। বলও খুব বেশি ঘোরাতে পারে না। কিন্তু অত্যন্ত বুদ্ধি খাটিয়ে লাইন ও লেংথের পরিবর্তন ঘটায়। ব্যাটার কী ভাবছে, তা বুঝে নিয়ে নিখুঁত ভাবে প্যাড লক্ষ্য করে বল করে। কখনও আবার আচমকাই বাউন্সার দেয়। অর্থাৎ, ব্যাটারকে আউট করতে না পারলেও কীভাবে তাকে আটকে রাখা যায়, সেই পরিকল্পনা ওর মাথায় সব সময় থাকে।”
শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়েও ক্রুণালের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন গাভাসকর। তাঁর মতে, লোয়ার অর্ডারে ব্যাট হাতে রান করার পাশাপাশি ডিপে ফিল্ডিংয়েও দলকে ভরসা দেন এই অলরাউন্ডার। বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় এমন ক্রিকেটারদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। গাভাসকরের সংযোজন, “শুধু বোলিংয়েই নয়, লোয়ার অর্ডারে ব্যাটার হিসাবে এবং ডিপে ফিল্ডার হিসেবেও ক্রুণাল দলকে ভরসা জোগায়। আমার বিশ্বাস, বিশ্বকাপ জিততে হলে যেসব ক্রিকেটারের ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রয়েছে, কোনও রকম দ্বিধা না করে তাঁদেরই দলে সুযোগ দেওয়া উচিত।”
২০২১ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের পর থেকে আর ভারতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি ক্রুণালকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলেও আইপিএলে অবশ্য নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন তিনি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে গত মরশুমে তাঁর পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছে। ১৬টি ম্যাচে ১৪টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি লোয়ার মিডল অর্ডারে নেমে করেছেন ২২৬ রান। চাপের মুখে ব্যাট-বল দুই বিভাগেই অবদান রাখার ক্ষমতাই তাঁকে জাতীয় দলের দাবিদার করে তুলেছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
ক্রুণালকে দলে ফেরানোর প্রসঙ্গে বয়সের অঙ্ককে গুরুত্ব না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন গাভাসকর। তাঁর কথায়, “কোনও ক্রিকেটারের বয়স কত, দয়া করে তা বিচার করবেন না। বয়স কখনও যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না। কেউ যদি আইপিএলের মতো কঠিন প্রতিযোগিতায় নিয়মিত খেলে, তা হলে বুঝতে হবে সে পুরোপুরি ফিট। একই ভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে লাল বা সাদা বলে খেলে যদি কেউ ধারাবাহিক ভাবে পারফর্ম করে, তা হলে তার ফিটনেস ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই তাকে সরাসরি ভারতীয় দলে সুযোগ দেওয়া উচিত। জাতীয় দল গঠনের পদ্ধতি এমনই হওয়া দরকার।”
