শীতের দিনে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে হাতে-পায়ে মোজা পরেন অনেকেই। বিশেষ করে শীতের সকালে অজু করতে গিয়ে পায়ের মোজা খোলা এবং ঠান্ডা পানিতে পা ধোয়া অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় অজুর ক্ষেত্রে সহজ পদ্ধতি অনুসরণের সুযোগ দিয়েছে ইসলামি শরিয়ত। নির্দিষ্ট শর্তে পা ধোয়ার পরিবর্তে মোজার উপর মাসেহ করেই অজু সম্পন্ন করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে চামড়ার মোজা পরতে হবে।
মোজার উপর মাসেহ করার সময়সীমা ব্যক্তির অবস্থানের উপর নির্ভরশীল। শরিয়তের পরিভাষায়, মুসাফির অর্থ এমন ব্যক্তি, যিনি শরিয়ত নির্ধারিত দূরত্বে সফরের উদ্দেশ্যে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছেন। আর মুকিম হলেন যিনি মুসাফিরের বিধানের আওতাভুক্ত নন। মুসাফির ব্যক্তি তিন দিন তিন রাত বা ৭২ ঘণ্টা এবং মুকিম ব্যক্তি এক দিন এক রাত বা ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মাসেহ করতে পারবেন।
এ প্রসঙ্গে হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মোজার উপর মাসেহ করার সময় মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত।’ (আবু দাউদ: ১৫৭)
মাসেহ বৈধ হওয়ার শর্তসমূহ
- যতক্ষণ পর্যন্ত নিম্নোল্লেখিত শর্তগুলো পাওয়া যাবে, মোজার উপর মাসেহ বৈধ হবে। শর্তগুলো হলো:
- পবিত্র হয়ে মোজা পরা। অর্থাৎ অজু করে পা ধোয়ার পর মোজা পরা। (বোখারি: ১৯৯)
- মোজা দ্বারা টাখনু ঢেকে থাকা। (মুসলিম: ৩৫৪)
- মোজা ছেঁড়াফাটা হলে পায়ের ছোট আঙুলের তিন আঙুল পরিমাণের কম ছেঁড়াফাটা থাকতে হবে। (আবু দাউদ: ২৪২০)
- উভয় মোজা বাঁধা ছাড়া পায়ে লেগে থাকা।
- তা ধারাবাহিক চলার উপযোগী হওয়া।
সুতরাং আমাদের দেশে প্রচলিত সুতার মোজার উপর মাসেহ বৈধ নয়।
মোজর উপর মাসেহের ফরজ ও সুন্নতসমূহ
মাসেহের ফরজ সীমারেখা: হাতের ছোট তিন আঙুলের সমান পায়ের উপরের অংশ মাসেহ করা। (আবু দাউদ: ১৪০)
মাসেহের সুন্নত: পায়ের আঙুলের মাথা থেকে হাতের আঙুলগুলো প্রশস্ত করে টাখনু পর্যন্ত মাসেহ করা। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ১/১৮৫)
মোজা মাসেহের নির্ধারিত মেয়াদ
মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত। (আবু দাউদ: ১৩৫)
মুকিম যদি মাসেহ করার পর সফর আরম্ভ করে, তবে মুসাফিরের সময়সীমা পরিপূর্ণ করবে, তদ্রূপ মুসাফির যদি মাসেহ করার পর মুকিম হয়ে যায়, তবে মুকিমের নির্ধারিত মেয়াদ পূরণ করবে। (আবু দাউদ: ১৩৫)
যেসব কারণে মাসেহ ভেঙে যায়
- যেসব কারণে অজু ভেঙে যায়, সেসব কারণে মাসেহও ভেঙে যায়। (তিরমিজি: ৬৯)
- মোজা খোলার কারণে মাসেহ ভেঙে যায়। (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি: ১৪২২)
- মোজা যদি পায়ের টাখনুসহ বেশিভাগ অংশ বের হয়ে যায়, তখনও মাসেহ ভেঙে যাবে। (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি: ১৪২২)
- নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাধ্যমে মাসেহ ভেঙে যায়। (বাদায়ে: ১/৪৬)
- উভয় মোজার কোনো একটিতে বেশিরভাগ অংশে পানি পৌঁছে গেলে মাসেহ ভেঙে যায়। (সুনানুল কুবরা: ১৩৯৬)
