সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী, বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর জন্মদিন আজ ১৪ অক্টোবর। এ উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে। বাবার আদর্শ অনুসরণ করে ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর রাজনৈতিক ইতিহাস, জনসেবা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুধু দলীয় কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিল না; বাঁশখালীর মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ও ছিল তাঁর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৫০ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক (বি.কম) ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় কর্মসূচি ও নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তাঁর পরিচিতি বিস্তৃত হয়।
তিনি চট্টগ্রাম-১৬ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসেবামূলক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ভূমিকা আলোচিত হয়েছে।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর তিনি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়।
তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
বাঁশখালী একটি বিস্তৃত উপকূলীয় উপজেলা। এখানে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিকাশ, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনও বাঁশখালীর উন্নয়ন ও জনসেবার আলোচনায় স্মরণ করা হয়।
জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পিতার রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। পাশাপাশি তিনি বাঁশখালীর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন।
২০২২ সালের ৮ নভেম্বর ৭২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোক সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অর্জিত পরিচিতি এবং বাঁশখালীর রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান তাঁকে স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্রে পরিণত করেছে।
আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়েছে।
বিআলো/শিলি