Published on
:
2 min read
এই সময়: পুজোর দিনগুলোয় কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা ভরসা রাখল শহরের লাইফলাইন মেট্রোর উপরেই। বাস–ট্রাম নয়, দ্রুত যাতায়াতের জন্যে ভূগর্ভকেই বেছে নিলেন বহু মানুষ। পঞ্চমী থেকে দশমী — দুর্গাপুজোর এই ছ'দিনে কলকাতা মেট্রোয় যাত্রীসংখ্যা ছাপিয়ে গেল বিগত সব বছরের হিসেব। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত মেট্রোয় যাতায়াত করেছেন ৬১.৫১ লক্ষ যাত্রী। ২০২৫–এ পুজোর এই দিনগুলোয় মেট্রোর যাত্রীসংখ্যা ছিল ৪৬.৫৬ লক্ষ। অর্থাৎ, এক বছর ব্যবধানে পুজোয় যাত্রী বেড়েছে প্রায় ১৫ লক্ষ। কলকাতা মেট্রোর ভিড়ের এই রেকর্ডে নতুন নজির গড়েছে ষষ্ঠী। ওই দিন মেট্রোয় উঠেছেন ১২.০১ লক্ষ যাত্রী, যা কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসে এক দিনে সর্বাধিক যাতায়াতের রেকর্ড।
মেট্রোর হিসেবে এ বার যাত্রীসংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল দমদম স্টেশন। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেছেন ৪.৯৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ। ৪.৮৩ লক্ষের বেশি যাত্রীর যাতায়াতে কালীঘাট ছিল দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানাধিকারী শিয়ালদহের যাত্রীসংখ্যা ৪.১৯ লক্ষেরও বেশি। পুজোর ভিড় সামলাতে এই তিন স্টেশনে বাড়তি নজরদারি ছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষের।
পুজোর ভিড় সামলাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। কোন আধিকারিক ও কর্মী কী দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্দিষ্ট করে নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছিল। স্টেশনের কর্মী-সহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তৈরি করা হয় ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা। ব্যস্ত স্টেশনগুলিতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত আধিকারিক ও কর্মী। নিরাপত্তায় রেলরক্ষী বাহিনী (আরপিএফ) এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীদের কাজে লাগানো হয়।
সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন এবং স্টেশন থেকে যাত্রীদের সুশৃঙ্খল ভাবে বের করার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে মেডিক্যাল বুথও রাখা হয়েছিল। মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার প্রেম সাগর গুপ্ত-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বিভিন্ন স্টেশনও পরিদর্শন করেন পুজোর দিনগুলিতে। ট্রেনে উঠেও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। পুজোর ছুটিতে কর্মীদের একাংশের দায়িত্ব পালনকে যাত্রী পরিষেবা সচল রাখার গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে জানিয়েছে মেট্রো। বিপুল যাত্রী সামলেও পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।