ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। গত সোমবার দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকের উদ্দেশ্য ও আলোচনার বিষয়ে দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে এ বৈঠক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওভদা বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। পরে রয়টার্সও তিন ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাতে জানায়, বৈঠকে ইরান নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে নতুন কোনো হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য নিশ্চিত করেনি কোনো পক্ষ।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, হেগসেথের ইসরাইল সফরের কথা আগাম প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পরে হেগসেথ ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্বীকার করলেও ইসরাইল সফর বা নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি মার্কিন সেনাদের একটি ঐতিহাসিক মিশনে নিয়োজিত বলে উল্লেখ করেন।
ইরান নিয়ে সংবেদনশীল আলোচনা চলার সময় এমন গোপন সফর নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে আগাম ঘোষণা ছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সফর সামরিক পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক নয়। বৈঠকটি নতুন হামলার প্রস্তুতির অংশ ছিল, এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণও নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। দীর্ঘ দূরত্বে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিমান দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে এবং দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালাতে পারে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারের পরিবর্তে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ওভদায় যান। বৈঠকটি বেশ দীর্ঘ সময় ধরে চলে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
তবে সামরিক ঘাঁটিতে বৈঠক কিংবা সেখানে যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকার অর্থ এই নয় যে নতুন হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর জল্পনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে নেতানিয়াহুর একটি মন্তব্য। সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। এ সময় আসন্ন নির্বাচনের আগে সমর্থন দেওয়ায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘ডোনাল্ড, আমাদের একটি কাজ শেষ করতে হবে। আপনি যেমনটা বলেছেন, আমরা একসঙ্গেই তা শেষ করব।’
এর আগে ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেছিলেন, তেহরান অবস্থান পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ করতে পারে।
সোমবার উত্তর ইসরাইলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি পরিদর্শনকালে নেতানিয়াহু ইসরাইলি বিমানবাহিনীর প্রস্তুতি এবং প্রয়োজন হলে শত্রুদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন।
তবে দুই নেতার বক্তব্যে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত থাকলেও বড় পরিসরে হামলা পুনরায় শুরুর কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাধার মুখে পড়ায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়।