রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দাড়িকাপাড়া (ফুলবাড়ী) পাথার এলাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘ এক যুগ ধরে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে। ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপের কারণে আশপাশের প্রায় ২০ একর জমির উঠতি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তির ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে ইট তৈরি ও পোড়ানোর কার্যক্রম চলছে। গত বছরও সেখানে ইট তৈরি করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবারও ইট উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এতে আশপাশের কৃষিজমির ফসল, মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন জমির মালিকেরা।
কৃষকেরা জানান, মাঠের ফসল তাঁদের সারা বছরের জীবিকা ও পরিবারের ভরণপোষণের প্রধান অবলম্বন। ইটভাটার তাপ ও ধোঁয়ায় ফসলের ক্ষতি হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাঁদের। এমন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়াও অনেক কৃষকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে।
অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র যাচাইয়ের দাবি, বাংলাদেশের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের ৪ ও ৯ ধারায় লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুতের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং লাইসেন্স গ্রহণের বিধান রয়েছে। একই আইনের ৫ ধারায় কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ ধারায় কৃষিজমিসহ নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে দাড়িকাপাড়া (ফুলবাড়ী) পাথার এলাকার আলোচিত ইটভাটাটির লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। কৃষকদের দাবি, ইটভাটাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হোক। অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পরিবেশ রক্ষার আহ্বান, স্থানীয় কৃষকেরা আরও দাবি করেছেন, ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপে ফসলের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা এবং কৃষিজমি ও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখা জরুরি। তাঁদের মতে, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হলে কৃষকদের উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রংপুর জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা। কৃষকদের প্রত্যাশা, ইটভাটার মালিকের পরিচয় বা প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনায় না নিয়ে কৃষিজমি ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রচলিত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হবে। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে একদিকে যেমন কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে তেমনি সম্ভাব্য ফসলহানি থেকেও রক্ষা পাবেন এলাকার কৃষকেরা।
মাঠের উঠতি ফসল যেন ইটভাটার তাপ ও ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রমকে অনিশ্চয়তার মুখে না ফেলে—এমন প্রত্যাশা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
The post পীরগঞ্জে কৃষি জমির পাশে অবৈধ ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগ ; ঝুঁকিতে কৃষি ও পরিবেশ appeared first on ভোরের চেতনা.
