রাহুল গান্ধীর পদযাত্রার ডাকে ফের মেট্রো বন্ধ করল বিজেপি সরকার
- প্রকাশিত : ২০২৬-১০-১২
- ১৫ বার পঠিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে দিল্লিতে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এবং তরুণদের রাজপথের আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দেওয়ায় রাজধানী দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক যোগাযোগ সীমিত করায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর এই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আজ টানা তৃতীয় দিনের মতো দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনের পটভূমি ও মূল অভিযোগ
১৩ কোটি ভোটার বাদ পড়ার অভিযোগ: গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দিতে এবং বিশেষ করে মুসলিমসহ সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সাফাই: তবে নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, দ্বৈত ভোটার, ভুয়া এন্ট্রি এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য একটি সংশোধনী কার্যক্রম ছিল এটি।
বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ: গত ১২ বছরের শাসনআমলে নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য এটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যেখানে বিরোধী দল, ছাত্রসংগঠন ও সুশীল সমাজ একাট্টা হয়েছে।
গণ-গ্রেপ্তার ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন
সংসদ সদস্যকে লাঞ্ছনা: সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেছেন যে, রবিবারের বিক্ষোভে পুলিশ তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। তিনি একে "গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর আঘাত" বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের আটক: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (RSF) জানিয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অন্তত ১৬ জন সাংবাদিককে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ কোনো অপরাধ নয়।
রাহুল গান্ধী ও সিজেপির অবস্থান
অমিত শাহকে রাহুলের হুংকার: আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশে বলেন, “যত খুশি পুলিশ আনুন—১০ হাজার, ২০ হাজার বা ৪০ হাজার। প্রয়োজনে বিজেপি-আরএসএসের গুন্ডাদেরও আনুন। আমরা ভয় পাওয়ার লোক নই, পিছিয়ে যাওয়ারও পাত্র নই। এই লড়াই থামবে না!”
সিজেপির লাগাতার কর্মসূচি: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ও তরুণ আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এই রাজপথের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
এ জাতীয় আরো খবর..
ক্যালেন্ডার...
❮
❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat

