গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ব্যস্ততম ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সার্ভিস লেনে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য অবৈধভাবে বালুর স্তূপ ফেলে রাখার কারণে তীব্র যানজট ও চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের পল্লিবিদ্যুৎ জোড়া পাম্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এই অনিয়মের চিত্র দেখা যায়। দিনের বেলায় যান চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা থাকলেও রাতের আঁধারে প্রভাবশালী চক্রের এই কর্মকাণ্ডে প্রতিনিয়ত স্থবির হয়ে পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি।
স্থানীয় পথচারী ও পরিবহন চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল রাতের বেলায় ট্রাকভর্তি বালু এনে সরাসরি মহাসড়কের সার্ভিস লেনে খালাস করছে। পরবর্তীতে সেই বালু রাতের বিভিন্ন সময়ে সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু বালু ফেলা এবং তা সরানোর মধ্যবর্তী সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে পুরো সার্ভিস লেন অবরুদ্ধ থাকে। এর ফলে রাতের বেলা যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী, চালক ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আজমেরি পরিবহনের বাসচালক ফজলু মিয়া জানান, এমনিতেই রাতের বেলা এই মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও যানজট লেগেই থাকে। তার ওপর সার্ভিস লেনে বালুর স্তূপ ফেলে রাস্তা বন্ধ করে রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। দীর্ঘ যানজটে পড়ে যাত্রীদের চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সার্ভিস লেন বন্ধ থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন নিয়মিত যাতায়াতকারী পথচারী নজরুল মিয়া। তিনি জানান, সারাদিন কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার সময় সার্ভিস লেন অবরুদ্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ছোট যানবাহনগুলোকে মূল সড়কে উঠতে হয়। এতে একদিকে যেমন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে যেকোনো সময় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সড়কের ওপর এভাবে বালু ফেলে যারা চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গাজীপুর অঞ্চলের নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর হোসেনের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব মেলেনি। দ্রুত এই অবৈধ বালু স্তূপ অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
