ব্যাট হাতে রান নেই, বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বারবার আত্মসমর্পণ, আবার আগে ব্যাটিংয়ে নেমেও বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থতা! বাংলাদেশের ওয়ানডে ব্যাটিংয়ের এই চিত্র নতুন নয়। দীর্ঘদিনের সেই ব্যর্থতার দায় এবার পড়ল ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের ওপর। জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সাবেক এই অধিনায়ককে। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে দলের সঙ্গে থাকছেন না তিনি।
আপাতত আশরাফুলের জায়গায় দায়িত্ব সামলাবেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তবে স্থায়ী ব্যাটিং কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।
বাংলাদেশের ওয়ানডে ব্যাটিংয়ের দুর্দশা বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায়। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজসহ সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। ঘরের মাঠে মাঝেমধ্যে ভালো ফল এলেও দেশের বাইরে গিয়ে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে ব্যাটারদের। দুইশর বেশি রান তাড়া করতে গেলেই খেই হারাচ্ছে দল। আবার আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেও দুইশ থেকে আড়াইশ রান তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যেখানে প্রতিপক্ষ দলগুলো অনায়াসে তিনশ, এমনকি চারশ রানের সংগ্রহ গড়ছে এবং তা তাড়া করেও জিতছে।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০২৫ সালের আয়ারল্যান্ড সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন আশরাফুল। প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালনের পর শেষ হলো তার জাতীয় দলের অধ্যায়। সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতার মধ্যে সমালোচনার মুখে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কোচিং প্যানেল থেকেই তাকে সরিয়ে দিল বিসিবি।
তবে জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না আশরাফুলের। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিসিবির সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের অন্য কোনো বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে এমনটাই জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশরাফুল নিজেও।
এ নিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘আমাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলের সঙ্গে আর থাকছি না। যেহেতু ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে, তাই ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ থেকে জানিয়েছে অন্য বিভাগে দায়িত্ব দেবে। কোথায় দেওয়া হবে, এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি এখনও।’
আশরাফুলের বিদায়ের পর আপাতত ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে দেশের অভিজ্ঞ কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের হাতে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর দিয়েই জাতীয় দলের সঙ্গে তার যাত্রা শুরু হয়।
সালাউদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জাতীয় দলের তৎকালীন ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্পকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নারী জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হেম্প। এরপর থেকে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও সালাউদ্দিন মিলেই জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচিংয়ের দায়িত্ব সামলেছেন।
সম্প্রতি সালাউদ্দিনকে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের প্রধান কোচের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। এবার নতুন বিদেশি ব্যাটিং কোচ নিয়োগের আগ পর্যন্ত জাতীয় দলের ব্যাটিং বিভাগ সামলানোর দায়িত্ব পেলেন তিনি। একই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ এবং এইচপি দলের প্রধান কোচের দায়িত্বের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যাটিং কোচ হিসেবেও কাজ করতে হবে তাকে।
আপাতত সালাউদ্দিনের ওপর দায়িত্ব দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি ব্যাটিং কোচ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির। এ নিয়ে দুই-তিনজনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফ, দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার হাশিম আমলা এবং শ্রীলঙ্কার সাবেক একজন ক্রিকেটার।
তবে এখনো কারও সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। নতুন কোচ দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ব্যাটারদের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সের দায়িত্ব সামলাতে হবে সালাউদ্দিনকেই।
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামী বুধবার। প্রথম টেস্ট সামনে রেখে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলছে দলের অনুশীলন। সিরিজ শুরুর আগমুহূর্তে কোচিং প্যানেলে এই পরিবর্তন বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে!
