Published on
:
1 min read
সূর্যকান্ত কুমার, কালনা
কাঁচা থোড়, ভিজে ভাত, মাছের চাটনি, পুঁই শাকের চচ্চড়ি, ইলিশ মাছ।
রীতিমতো লোভনীয় খাদ্য তালিকা। এমনই ভোগ দেওয়া হয় সমুদ্রগড়ের প্রাচীন লোচনমাতার দুর্গাপুজোয়। এই পুজোয় ভোগে যেমন রয়েছে বৈচিত্র, তেমনই রয়েছে ভোগ নিয়ে নানা ধরনের কাহিনি। কথিত রয়েছে, দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়েই এমন রীতির প্রচলন। এলাকার কয়েকশো মানুষ অষ্টমীর অঞ্জলি দেন দেবীর সামনে।
কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই পুজোর প্রচলন হয় এলাকার এক ব্রাহ্মণ রামলোচন বাগচির হাত ধরে। তাঁর উপাধি ছিল তর্কালঙ্কার। এলাকায় বড় হাট বসত। সবার সাহায্য নিয়ে তিনি পুজো করতেন। শোনা যায়, একবার পুজোর আগে ভয়াবহ বন্যা হয়। পুজোয় যাঁরা সাহায্য করতেন, সেই তাঁরাই পড়লেন দুর্ভিক্ষের কবলে। এই অবস্থায় পুজো কী ভাবে হবে?
উপায় বের করতে মনে মনে অস্থির হয়ে ওঠেন রামলোচন। সেই সময়েইই তিনি দেবীর স্বপ্নাদেশ পান, এই পুজো যেন কোনও অবস্থায় বন্ধ না–হয়। দেবী এই আদেশও দেন, তাঁকে থোড়ের ভোগ দিতে হবে। বাড়ির মাচায় যে পুঁইশাক আছে, তা দিয়ে তৈরি করতে হবে চচ্চড়ি।
সেখানেই শেষ নয়। এর পরে দেবী এক মৎস্যজীবীকে স্বপ্নাদেশ দেন, গঙ্গায় মাছ ধরার সময়ে একটা ইলিশ মাছ উঠবে। তা তাঁর ভোগে নিবেদন করতে হবে। সেই স্বপ্নাদেশ মেনে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে দেবীকে থোড়ের ভোগ দেওয়া হয়। নবমীর দিন দেওয়া হয় ইলিশ মাছের ভোগ। দশমীর দিন দধিকর্মার সঙ্গে থাকে ভিজে ভাত ও মাছের চাটনির ভোগ।
রামলোচন স্বপ্নাদেশে দেবীর যে রূপ প্রত্যক্ষ করেছিলেন, সেই আদলে তৈরি হয় প্রতিমা। এখানে সিংহের মুখ ঘোড়ার মুখের আদলে। লাগোয়া ভাগীরথীতে দেবীকে ঘোরানোর পরে সূর্যাস্তের আগে দেওয়া হয় বিসর্জন।