আজকাল ওয়েবডেস্ক: মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় নতুন মোড়। আমেরিকার নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক জামিন পাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আমেরিকায় গিয়েছিলেন।
সেখান থেকে ভারতে ফিরে শুক্রবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত চত্বরে এনআইএ-এর বিশেষ আদালতে হাজিরা দিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই দেশে ফিরে হাজিরা দিয়েছেন ভ্যানডাইক।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এক মাসের জন্য আমেরিকায় যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন ভ্যানডাইক। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁকে বিদেশযাত্রার অনুমতি দিয়েছিল আদালত।
তবে একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভারতে ফিরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। দেশে ফেরার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আদালতকে বিষয়টি জানানোও বাধ্যতামূলক ছিল।
সেই নির্দেশ মেনেই শুক্রবার আদালতে হাজিরা দেন তিনি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভ্যানডাইককে জামিন দিয়েছিল এনআইএ-এর বিশেষ আদালত। তদন্তকারী সংস্থা ৮ সেপ্টেম্বর যে চার্জশিট জমা দিয়েছিল, তা অসম্পূর্ণ বলে জানায় আদালত।
তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৮০ দিনেরও বেশি সময় হেফাজতে ছিলেন ভ্যানডাইক। এই মামলায় ভ্যানডাইকের পাশাপাশি ছ’জন ইউক্রেনের নাগরিককেও গ্রেপ্তার করেছিল এনআইএ।
তাঁরা হলেন ম্যাক্সিম হনচারুক, পেত্রো হুবরা, ইভান সুকমানভস্কি, মারিয়ান স্তেফানকিভ, তারাস স্লিভিয়াক এবং ভিক্টর কামিনস্কি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই সাতজন মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে ড্রোন হামলার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই মিজোরামে যান এবং সেখান থেকে মায়ানমারে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ।
সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি ড্রোন পরিচালনা শেখান তাঁরা। এমনকী, ইলেকট্রনিক জ্যামিং শেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অভিযুক্তরা শুধু সামরিক প্রশিক্ষণেই যুক্ত ছিলেন না, ইউরোপ থেকে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোনের সরঞ্জাম মায়ানমারে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা নিয়েছিলেন।
এর আগে জামিন দেওয়ার সময় এনআইএ-এর বিশেষ আদালত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ২১ ও ২৩ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রথমে UAPA-র যে ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছিল, সেগুলি ওই পর্যায়ে বাদ দেওয়া হয়।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ভ্যানডাইক ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসকে ৫.৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, UAPA-র আওতায় অপরাধের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের স্থানীয় কেউ সাহায্য করেছিলেন কি না, তাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের বাইরে আরও ন’জনের এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছ থেকে প্রাথমিক সূত্র পাওয়ার পর অভিযুক্তদের উপর প্রায় তিন মাস নজরদারি চালিয়েছিল এনআইএ।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=n0G7RSBfxpaDIap8
তার পরেই ১৩ মার্চ তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারও যোগ রয়েছে কি না এবং ভারতে এদের কার্যকলাপ কতটা বিস্তৃত ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
