বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনায় ঢাকা মহানগর আনসারের পশ্চিম জোনের মিরপুর থানাধীন ডেসকো আনসার গার্ডের দীর্ঘদিনের রান্না ও সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন গ্যাসের চুলা ও পানির ফিল্টার স্থাপনের ফলে সদস্যদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি তাদের দায়িত্ব পালনে কর্মস্পৃহা ও মনোবল বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১১ অক্টোবর আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের নির্দেশনায় ঢাকা মহানগর আনসারের পরিচালক ও পশ্চিম জোনের জোন কমান্ডার ডেসকো আনসার গার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং আবাসন, রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত পানিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। সদস্যদের বাস্তব সমস্যা সরাসরি জানার পর সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সদস্যদের রান্নার সুবিধা নিশ্চিত করতে ৩৫ কেজি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস সিলিন্ডারসহ একটি নতুন গ্যাসের চুলা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ৬০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি নতুন ইলেকট্রিক পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। এতে সদস্যদের রান্না ও নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে কার্যকর অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে গার্ডটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কার্যক্রম শুরু করা ডেসকো আনসার গার্ডে বর্তমানে দুজন প্লাটুন কমান্ডার, একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার ও ৫৫ জন আনসার সদস্যসহ মোট ৫৮ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা ডেসকো প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেডের আটটি পয়েন্ট ও সাব-অফিসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। দায়িত্বের পরিধি ও সদস্যসংখ্যা বিবেচনায় তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।
দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ায় ডেসকো আনসার গার্ডের সদস্যরা মহাপরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, সদস্যদের কল্যাণ ও বাস্তব সমস্যার প্রতি ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের আন্তরিক মনোযোগ কর্মপরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। একই সঙ্গে তা দায়িত্ব পালনে আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বিভিন্ন আনসার গার্ডের আবাসন, স্বাস্থ্যসম্মত পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ বাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। সদস্যকল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, মনোবল বৃদ্ধি এবং দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার এ প্রচেষ্টা জননিরাপত্তা ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনে সহায়ক হচ্ছে।
