বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে সোনার দাম কমেছে। তবে তিন দেশের বাজারে সোনার দামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। বাংলাদেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। ভারতে ২৪ ক্যারেটের ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪০ রুপি। আর পাকিস্তানে প্রতি তোলা সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ৩০০ রুপি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমার প্রভাব পড়েছে তিন দেশের বাজারেই। তবে ক্যারেট, ওজন, মুদ্রার বিনিময় হার ও করের পার্থক্যের কারণে সরাসরি দাম তুলনা করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে সোনার নতুন দাম
বাংলাদেশের বাজারে সোনার গহনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা করা হয়েছে। এই দামের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা কমে হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে এক ভরি সোনার ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
বিজ্ঞাপন
ভারতে সোনার দাম কত?
ভারতের বাজারেও বৃহস্পতিবার সোনার দাম কমেছে। দিনের শুরুতে ২৪ ক্যারেটের প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ দশমিক ১৯ শতাংশ কমে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪০ রুপিতে নেমে আসে।
অর্থাৎ, প্রতি ১০ গ্রামে সোনার দাম কমেছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ রুপি। দেশটির বাজারে সোনার দাম সাম্প্রতিক নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
তবে ভারতের এই দর ২৪ ক্যারেটের সোনার জন্য। বাংলাদেশের উল্লেখ করা দাম ২২ ক্যারেটের সোনার গহনার। ফলে দুই দেশের দামের পার্থক্য হিসাব করতে হলে একই ক্যারেট ও সমান ওজনের সোনার দাম তুলনা করতে হবে।
পাকিস্তানে সোনার দাম কত?
পাকিস্তানেও বৃহস্পতিবার সোনার দাম কমেছে। দেশটির অল পাকিস্তান জেমস অ্যান্ড জুয়েলার্স সরাফা অ্যাসোসিয়েশনের (এপিজেজেএসএ) প্রকাশিত দর অনুযায়ী, প্রতি তোলা সোনার দাম কমে ৪ লাখ ৩০ হাজার ৩০০ পাকিস্তানি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া ১০ গ্রাম সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৯০ পাকিস্তানি রুপি।
বিজ্ঞাপন
পাকিস্তানের বাজারেও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দরপতনের প্রভাব পড়েছে। তবে বাংলাদেশি টাকায় দুই দেশের সোনার দাম তুলনা করতে হলে পাকিস্তানি রুপির বিনিময় হার এবং সোনার বিশুদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
তিন দেশের সোনার দামের পার্থক্য কত?
বাংলাদেশে সোনার গহনার দাম ভরিতে নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তানের বাজারদরে ১০ গ্রাম ও তোলা—দুই ধরনের একক ব্যবহৃত হয়। আবার তিন দেশের মুদ্রাও আলাদা।
এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম, এক ভারতীয় রুপি সমান বাংলাদেশি ১ দশমিক ৩০ টাকা এবং এক পাকিস্তানি রুপি সমান ০ দশমিক ৪৫ টাকা ধরে হিসাব করলে-
বিজ্ঞাপন
ভারতে প্রতি ভরি ২৪ ক্যারেট সোনার দাম পড়ে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪৪ ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২ লাখ ১৯ হাজার টাকা প্রায়।
আর পাকিস্তানে প্রতি ভরি ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার ৯৯০ পাকিস্তানি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে পরিবর্তন, স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি শুল্ক এবং কর—সব মিলিয়েই বিভিন্ন দেশে সোনার দামের পার্থক্য তৈরি হয়।
সূত্র: বাজুস, এনডিটিভি, পাকিস্তান টুডে
কেএএ/
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
