“রাজসাক্ষী হয়ে যান। পদত্যাগ করুন। সেটাই হবে আপনার দেশসেবা।” ভোটচুরির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এই বার্তাই দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেই সঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, কেন্দ্রের নানা ক্ষেত্রে কর্মরত অন্তত ২০০ জন আধিকারিক নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তাঁর সঙ্গে। সেখান থেকে সরকারের সব খবর মিলছে। জ্ঞানেশের হাল হকিকতও জানতে পারছেন বলে রাহুলের দাবি।
সোমবার দুপুরে দিল্লির কংগ্রেস দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার ভয়ে আছেন। রাতে ঘুমোতে পারছেন না।” এর পরেই তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “বার্তা আসছে। উনি নিজেও এই সাংবাদিক বৈঠক দেখছেন।” রাহুলের বক্তব্য, “আপনি অপরাধ করেছেন। কিন্তু আপনি মূল অপরাধী নন। আপনি ভুল করেছেন। কিন্তু এই ভুলের নেপথ্যে আপনার মস্তিষ্ক নেই। আমরা জানি, আপনি কী পরিমাণ চাপের মধ্যে রয়েছেন।” মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রাহুলের পরামর্শ, পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হয়ে যান। নির্বাচনের তদন্তে সহযোগিতা করুন।
ওই সাংবাদিক বৈঠকেই রাহুল বলেন, “মোদিজি আপনি শুনলে চমকে যাবেন। আমি বলছি, আপনার সরকারের অন্তত ২০০জন আধিকারিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ইডি, সিবিআই, বিদেশমন্ত্রক-সমস্ত জায়গা থেকেই আমরা খবর পাচ্ছি। আপনার যা খুশি করুন, কিন্তু সত্য আমাদের সঙ্গে রয়েছে।” বেরনোর সময়ে বলে যান, দেশের নানা প্রান্তে নানা ভাবে প্রতিবাদ হচ্ছে। কিন্তু আসলে সেটা একটাই প্রতিবাদ-জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, এসআইআর-এর নামে ভোটচুরির অভিযোগ এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছিল বিরোধী জোট। দুপুরে কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী নেতাদের জমায়েতে ছিলেন রাহুল, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কলকাতায় ফেরার বিমান ধরার জন্য রাহুলদের মিছিলে দেখা যায়নি মমতাকে। দেশে উৎসবের মরশুম। তাই বিরোধীরা আপাতত আলাদাভাবে নিজেদের মতো কর্মসূচি পালন করবে। জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন রাহুল-সহ আট বিরোধী নেতা। সন্ধ্যায় আচমকাই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যান তাঁরা।
