কালবেলা · general
সীতাকুণ্ডে মঞ্জুর হত্যা মামলার আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
১৩/১০/২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও হামলায় বাসচালক মঞ্জুর আহমেদ হত্যার ঘটনায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফটিকছড়ি উপজেলার সমিতির হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রনি (৩৭) এ মামলার এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার গোলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।
নিহত মঞ্জুর আহমেদ সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকার আব্দুল মোনাফের ছেলে। তিনি পেশায় বাসচালক ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ওই ওয়ার্ড কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
এসআরবি-৭ জানায়, মঞ্জুর আহমেদ হত্যা মামলার আসামি রনি ফটিকছড়ি এলাকায় অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে সমিতির হাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাটহাজারী মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করা হয়। শুরুতে অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে মারা গেলে ২৯ সেপ্টেম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজন করে হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জুর আহমেদের বাড়ির পাশে ক্যাপ্টেন রানা নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি পুকুর রয়েছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে পুকুরটি বর্গা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন মঞ্জুর। পুকুরের পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আসামিদের সঙ্গে তার বিরোধ বাধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে পুকুরের পানি নিষ্কাশনের জন্য মেশিন বসাতে গেলে তাকে বাধা দেন আসামিরা। বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পুকুর থেকে মাছ ধরতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার বাদী মঞ্জুরের স্ত্রী রুমা আক্তারের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের স্থানীয় নেতা মেহেদী হাসান রানা ও তার সহযোগীরা পুকুরে পাম্প বসাতে বাধা দেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মঞ্জুরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর মেহেদী হাসান রানা ফোন করে মঞ্জুরকে পুকুরপাড়ে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রামদা, চায়নিজ কুড়াল, চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে মেহেদী হাসান রানা তার দুই পায়ের রগ কেটে দেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা মঞ্জুরকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে তার মৃত্যু হয়।
মঞ্জুর আহমেদ হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় মেহেদী হাসান রানাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মো. নিশান, মো. আলমগীর, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রনি, আশিক, মো. সাইমন, আমির হোসেন ও মহিন উদ্দিন।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেটের কোতোয়ালি থানার দরগা গেট এলাকার আজমির হোটেল থেকে মামলার আরেক আসামি মো. আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৬ অক্টোবর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে প্রধান আসামি মেহেদী হাসান ওরফে রানাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৭ ও এসআরবি-৩-এর যৌথ দল। সর্বশেষ রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗