আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের দল গঠনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর। দলের ব্যাটিং লাইনআপকে দীর্ঘ করার প্রবণতা যে ভারসাম্য নষ্ট করছে, সেই বিষয়েই সরব হয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর মতে, ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়াতে গিয়ে বোলিং বিভাগকে দুর্বল করা হলে তার খেসারত দিতে হয় দলকে।
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে পঞ্চম টি-টোয়েন্টি বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যাওয়ার পর জিওস্টারের ‘হায়ার ক্রিকেট লাইভ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গাভাসকর বলেন, ভারতীয় দলের অন্তত চারজন নিয়মিত বোলার থাকা উচিত। পাশাপাশি, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বোলারের ভূমিকা পালনের জন্য দলে দু’জন অলরাউন্ডার রাখা যেতে পারে। তাঁর মতে, ব্যাটিং অর্ডারকে আট নম্বর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
গাভাসকরের কথায়, “ভারতকে অন্তত চারজন নিয়মিত বোলার নিয়ে খেলতে হবে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ বোলার হিসেবে এমন ক্রিকেটারদের রাখা যেতে পারে, যাঁরা ব্যাটিংও করতে পারে। নমন ধীরের মতো কেউ, যিনি মূলত ব্যাটার হলেও প্রয়োজনে দুই-তিন ওভার বল করতে পারে। আবার অক্ষর প্যাটেলের মতো ক্রিকেটারও রয়েছে, যে নিজের চার ওভার বল করতে পারে।”
ভারতীয় দলে হার্দিক পান্ডিয়ার মতো ক্রিকেটারের বিকল্প খুঁজতে গিয়েই টিম ম্যানেজমেন্ট ভুল করছে বলে মনে করেন গাভাসকর। ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই সমান দক্ষ হার্দিকের মতো ক্রিকেটারকে হুবহু খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই তাঁর বিকল্প হিসেবে একই ধরনের ক্রিকেটার খোঁজার পরিবর্তে আলাদা ভূমিকা পালনে সক্ষম খেলোয়াড়দের উপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
গাভাসকর বলেন, “হার্দিক পান্ডিয়ার বিকল্প খুঁজতে গিয়ে আমরা অনেক সময় বেশি ভাবনাচিন্তা করে ফেলি। হার্দিকের কোনও বিকল্প নেই। তাঁর সমমানের ক্রিকেটার না পাওয়া গেলে এমন কাউকে দলে নিতে হবে, যে একটু অন্য ধরনের কাজ করতে পারবে।”
নমন ধীরের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, নমন নিজের বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে পারেন। তাঁর মতে, ব্যাটিং অর্ডার আট নম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ করার ফলে বোলিংয়ের শক্তি কমে যায়। আর সেই দুর্বলতাই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতকে সমস্যায় ফেলতে পারে।
একই আলোচনায় ভারতের প্রাক্তন ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারাও দলের বোলিং বিভাগ নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। বিশেষ করে স্পিনারদের নির্বাচন এবং তাঁদের ধারাবাহিকভাবে সুযোগ দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
পূজারার মতে, মাঠের বাউন্ডারির আকার অনুযায়ী প্রতিটি ম্যাচে একই স্পিনারকে খেলানো সম্ভব নয়। তবে যাঁরা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছেন, তাঁদের সেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো দরকার। প্রথম একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও যে তাঁরা দলের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, সেই বার্তা স্পিনারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
কুলদীপ যাদবের প্রসঙ্গ তুলে পূজারা বলেন, ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেটে স্পিনাররা দ্রুত আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে পারেন। চার ওভারে ৪০-৫০ রান দিয়ে ফেললে একজন বোলারের উপর চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অতীতে কুলদীপের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বরুণ চক্রবর্তীর পর ভারতীয় দলের স্পিন বিভাগে কুলদীপ যাদব, রবি বিষ্ণোই নাকি অন্য কোনও বোলারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা দ্রুত ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছেন পূজারা। তাঁর মতে, বিষ্ণোই সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে না পারায় বিকল্প নিয়েও ভাবতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
পূজারার বক্তব্য, আগামী দুই বছরের জন্য কোন স্পিনারদের নিয়ে এগোতে চায় ভারত, তা চিহ্নিত করে তাঁদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া জরুরি। বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে নির্দিষ্ট ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রাখলে দলের বোলিং বিভাগ আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সব মিলিয়ে, গাভাসকর ও পূজারার বক্তব্যে উঠে এসেছে ভারতীয় দলের ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন। ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বোলিংয়ের শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখা এবং স্পিনারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করাই এখন টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
