নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ‘ময়না ক্লিনিক’-এ চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিক ডাক্তার ময়না বেগমের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশুটির বাবা মো. হোসেন রয়েল (২৮)। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে নবজাতকটিকে মাতুয়াইল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ডেলিভারির জন্য স্ত্রীকে বন্দর থানাধীন আমিন আবাসিক এলাকার স্কুলঘাট সংলগ্ন ‘ময়না ক্লিনিকে’ ভর্তি করেন রাজমিস্ত্রি মো. হোসেন রয়েল। ওইদিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে সিজারের মাধ্যমে তার একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।
শিশু জন্মের পর থেকেই কান্না করতে থাকলে বিষয়টি ডাক্তার ময়না বেগমকে জানান বাবা রয়েল। তার অভিযোগ, এ সময় ময়না বেগম শিশুটির কোনো সমস্যা নেই এবং এমনিতেই কান্না করছে বলে জানান।
অভিযোগে রয়েল আরও উল্লেখ করেন, শনিবার সকাল থেকে শিশুটির কান্না ক্রমেই বাড়তে থাকে। তিনি বিষয়টি ফোনে আবার ময়না বেগমকে জানালেও তিনি ক্লিনিকে এসে শিশুটিকে দেখেননি। এমনকি কর্মরত নার্সদের ডাক্তার ডাকার কথা বললেও তারা বিষয়টিতে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিকের নার্সের পরামর্শে ময়না বেগমকে ফোন করেন রয়েল। তখন তাকে বন্দর থানাধীন ঝাউতলা এলাকার এক চিকিৎসক স্বপন ডাক্তারের কাছে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে চিকিৎসককে না পেয়ে তার সহকারীর কাছে অনুরোধ করলেও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিকের নার্সের পরামর্শে ময়না বেগমকে ফোন করেন রয়েল। তখন তাকে বন্দর থানাধীন ঝাউতলা এলাকার এক চিকিৎসক স্বপন ডাক্তারের কাছে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে চিকিৎসককে না পেয়ে তার সহকারীর কাছে অনুরোধ করলেও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
এরপর ময়না বেগমের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করলে তাকে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে যেতে বলা হয়। সেখানেও তাকে না পেয়ে ফরাজীকান্দা এলাকার ডা. দিপুর কাছে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়েও চিকিৎসককে না পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসক আসবেন বলে তার সহকারীর কাছ থেকে জানতে পারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ময়না বেগমের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করলে তিনি নবজাতককে তার ক্লিনিকে নিয়ে আসতে বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লিনিকে যাওয়ার পর ময়না বেগম নিজে না এসে নার্সদের ফোনে শিশুটিকে অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। নার্সরা শিশুটিকে অক্সিজেন দেওয়ার পর তার কান্না বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে রয়েল নার্সদের কাছে জানতে চাইলেও তারা কোনো উত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ময়না বেগমকে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি নবজাতককে দ্রুত মাতুয়াইল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর শনিবার দুপুর ১টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে মাতুয়াইল হাসপাতালে গেলে সেখানকার চিকিৎসক জানান, শিশুটি প্রায় এক ঘণ্টা আগেই মারা গেছে।
এ ঘটনায় শনিবার বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন শিশুটির বাবা মো. হোসেন রয়েল। অভিযোগে তিনি চিকিৎসকের অবহেলা ও যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও ক্লিনিকে তাৎক্ষণিক কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। এমনকি চিকিৎসকের পরিবর্তে ক্লিনিকের নার্সদের দিয়ে শিশুটির চিকিৎসা চালানো হচ্ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের প্রতিনিধি কাউছার বলেন, শিশুটি মারা যাবার আগে সুস্থ এবং স্বাভাবিক ছিলো। আমরা তাকে যথেষ্ট চিকিৎসা দিয়েছি। পরিবারকে আমরা মায়ের বুকের দুধ ছাড়া বাচ্চাকে অন্যকোন খাবার দিতে বারণ করেছিলাম। তবে কি কারনে বাচ্চাটির মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আলাউল কবির দিপু জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সিভিল সার্জনের কল পেয়ে এসেছি। তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হয়েছে। যতটুকু শুনলাম, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুটা অবহেলা আছে।”
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স ছাড়াই ‘ময়না ক্লিনিক’-এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে ক্লিনিকটির বৈধতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
