কালবেলা · general
মোটরসাইকেল চোরচক্রের হোতাসহ ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
২১/১০/২০২৬

চোখের পলকে মোটরসাইকেল চুরি করতেন শাহিন মিয়া। তার নেতৃত্বে চক্রটি রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মোটরসাইকেল চুরি করত। রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকায় একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনার সূত্র ধরে শাহিনসহ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে আটটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে।
রংপুর নগরীর তাজহাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে আলহাজনগর দর্শনা গ্রামে আবদুল ওহাব নামের এক ব্যক্তির বাসার মূল ফটকের সামনে থেকে মো. গোলাম রব্বানীর (৪০) অ্যাপাচি ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি তাজহাট থানায় লিখিত এজাহার দেন।
পরে গত ১৯ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে চক্রের প্রধান শাহিন মিয়াকে নগরীর মডার্ন মোড়ে এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় আরও চারজনকে।
তারা হলেন- দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো. শিমুল মন্ডল (৩৫), পীরগঞ্জ উপজেলার কাজীরপাড়ার মো. মিলন মিয়া (৩৫), জাহাঙ্গীরাবাদ এলাকার মো. হাসান মিয়া (২৮) এবং ভগবানপুরের মো. রাশেদ প্রধান (৩২)। এসময় কাছ থেকে গোলাম রব্বানীর চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ মোট পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
আদালতে আবেদন করে আসামিদের তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা চক্র সম্পর্কে নানা তথ্য দেন বলে পুলিশ জানায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়ে রংপুরের মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ এলাকায় আবারও অভিযান চালানো হয়।
এ অভিযানে ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পীরগঞ্জ থানার শানেরহাট বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের আরেক সদস্য মো. রাসেল মিয়াকে (২৬)। তিনি শানেরহাট দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিবন্ধনহীন আরও তিনটি চোরাই পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় মোট আটটি মোটরসাইকেল উদ্ধার হলো।
পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে একটি জায়গায় জমা রাখত। কিছুদিন পর সেগুলো বের করে কম দামে বিক্রি করে দিত। চক্রটিকে ধরতে গত দুই মাস ধরে টানা কাজ করছিল পুলিশ।
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রংপুর অঞ্চলে মোটরসাইকেল চুরি চক্রের হোতা শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের আরও পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, রিমান্ডে থাকা পাঁচ আসামিকে আগামীকাল রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হবে। গ্রেপ্তার রাসেল মিয়াকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗