কালবেলা · আন্তর্জাতিক
সীমান্তে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী ‘মাইক’ বসাবে উ. কোরিয়া
২২/১০/২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়া যদি তথাকথিত হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ‘ভয়াবহ ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্তে নতুন ধরনের প্রতিরোধমূলক লাউডস্পিকার ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে পিয়ংইয়ং।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-এর বরাতে জানা যায়, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, তাদের পুরো দক্ষিণ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হবে।
তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সীমান্তে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের এই পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিউলের ক্রমাগত হস্তক্ষেপের কারণে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে কিম হুঁশিয়ারি দিলেও, ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই হুমকি দিয়েছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধ কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেষ না হয়ে স্রেফ যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্থগিত হয়েছিল। ফলে আইনগতভাবে দুই কোরিয়া এখনো পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। সর্বশেষ এই হুমকির ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটাল।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যকার নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন, যাদের দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
সিউলের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেখানে মাইন পুঁতে রেখেছিল এবং এই ঘটনায় পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়। তবে উত্তর কোরিয়া এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে একে ‘দোষ চাপানোর কৌশল’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিয়ংইয়ংয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই দক্ষিণ কোরিয়া এই মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗