বিগ বসের বাড়িতে টিকে থাকতে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক চাল দেওয়া। কখনও নীরব থাকাই কৌশল, আবার কখনও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়াই হয়ে ওঠে গেমের মোড় ঘোরানোর অস্ত্র। আর সেই খেলাতেই কি ধীরে ধীরে নিজের জায়গা পাকা করছেন নিরঞ্জন? যে নিরঞ্জনকে একসময় তাঁর পার্টিসিপেশন নিয়ে সতর্ক করেছিলেন দাদা, তিনিই কি এখন বিগ বসের বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠছেন?
ভরত কল এর মতে, বাড়ির সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন নিরঞ্জন। লাফটারসেন নাকি ধীরে ধীরে দুর্নিবারের জায়গা নিয়ে নিচ্ছেন৷ তাঁর কথায়, তাঁর অনুপ্রেরাণায় নাকি বাড়ির সদস্যরা কাজ করছেন৷ শোয়ের শুরু থেকেই নিরঞ্জনকে নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল ছিল। প্রতিযোগী হিসেবে তিনি কতটা সক্রিয় থাকবেন, গেমে তাঁর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ ছিল। কিন্তু বিগ বসের বাড়িতে প্রতিটি দিনই নতুন পরীক্ষা। এখানে প্রথম কয়েক দিনের পারফরম্যান্স দিয়ে কাউকে বিচার করা যায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় সমীকরণ, সামনে আসে প্রতিযোগীদের আসল চরিত্র। নিরঞ্জনের ক্ষেত্রেও কি তেমনই কোনও পরিবর্তন চোখে পড়ছে?
বাড়ির ভিতরে প্রতিযোগীদের মধ্যে সম্পর্ক, মতবিরোধ, দলবদল এবং নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার লড়াই প্রতিদিনই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কে কতটা সক্রিয়ভাবে খেলায় অংশ নিচ্ছেন, সেটাই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নিরঞ্জন যদি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে পরিস্থিতি সামলাতে পারেন, অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমীকরণ তৈরি করতে পারেন, তা হলে তাঁর গুরুত্ব বাড়তে বাধ্য। আর সেখান থেকেই তৈরি হতে পারে গেমচেঞ্জার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা।
তবে বিগ বসের মতো রিয়্যালিটি শোয়ে শুধু কয়েকটি দৃশ্য বা একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউকে গেমচেঞ্জার বলে দেওয়া কঠিন। ধারাবাহিকতা, চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রয়োজনের সময়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একজন প্রতিযোগীর আসল শক্তি। নিরঞ্জন সেই জায়গায় কতটা এগোতে পারছেন, সেটাই এখন দেখার।
দাদার সতর্কবার্তা কি নিরঞ্জনের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল? সেই কথাই কি তাঁকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দিয়েছে? নাকি বাড়ির বদলে যাওয়া পরিস্থিতিই তাঁকে নতুন করে নিজের খেলা সাজানোর সুযোগ করে দিয়েছে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই আগ্রহী দর্শকরা।
একসময় যাঁর পার্টিসিপেশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি যদি পরবর্তী সময়ে খেলার গুরুত্বপূর্ণ চালগুলি দিতে শুরু করেন, তা হলে সেটাই হবে তাঁর সবচেয়ে বড় জবাব। তবে নিরঞ্জন সত্যিই বাড়ির গেমচেঞ্জার হয়ে উঠেছেন কি না, তা বোঝার জন্য আগামী দিনের খেলায় তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে নজর রাখতে হবে। বিগ বসের বাড়িতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। আজ যিনি পিছিয়ে, কাল তিনিই হয়ে উঠতে পারেন সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।
