যাদের হাত ধরে রুপালি পর্দার অনেক গল্প প্রাণ পায়, যারা ক্যামেরার পেছনের সুতা টেনে একেকজন তারকা তৈরি করেন, তাদেরই একজন মিজানুর রহমান মিজান। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ঢালিউডের এই সুপরিচিত কাস্টিং ডিরেক্টর ও অভিনয়শিল্পী আজ নিজেই এক অবহেলিত এবং বিষাদময় গল্পের চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। দীর্ঘ নয় মাস ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী তিনি। দুই বছরের বেশি সময় ধরে জটিল মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত এই মানুষটির খোঁজ আজ আর কেউ রাখে না। চরম পারিবারিক আর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই শিল্পী এখন বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন।
চলচ্চিত্রপাড়ায় মিজানুর রহমান মিজান এক অতিপরিচিত নাম। বহু সিনেমায় কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রে ক্যামেরার সামনেও দাঁড়িয়েছেন তিনি। যে মানুষটি এফডিসির ফ্লোরগুলোয় চনমনে আড্ডায় মেতে থাকতেন, তিনি আজ নিস্তব্ধ, বাকহীন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার গুরুতর মস্তিষ্কজনিত জটিলতা রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনবার স্ট্রোক করার পর তিনি পুরোপুরি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন এবং তার শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেছে। নয়টি মাস ধরে তার কাটছে ঘরের চার দেয়ালের মাঝে, বিছানায় শুয়ে।
অসুস্থতার শুরুর দিকে চলচ্চিত্র অঙ্গনের কিছু মানুষ খোঁজখবর নিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সবাই যেন তাকে ভুলে গেছেন। বর্তমানে তার পাশে নেই শিল্পী সমিতি থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির তেমন কোনো মানুষ। দীর্ঘ দুই বছর চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি আজ নিঃস্বপ্রায়। মিজানের ছেলে মিরাজ জানান, চিকিৎসার ব্যয় ও পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে বাবার সঠিক চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে।
মিজানের শারীরিক পরিস্থিতির এখন এতটাই অবনতি হয়েছে যে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে তার অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সেই বিপুল অঙ্কের ব্যয় বহন করার সামর্থ্য এই পরিবারের আর নেই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিজানের ছেলে মিরাজ বলেন, ‘আব্বুর খুব দ্রুত সার্জারি করা প্রয়োজন। আমরা কোনোভাবেই কোনো কিছু সামলে উঠতে পারছি না। দীর্ঘ চিকিৎসার খরচে আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে।’ এ অবস্থায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীদের পাশাপাশি দেশের সরকারের কাছে চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আগে জয় চৌধুরী কয়েকজন ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে মিজানুর রহমানের বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মিরাজ। সে সময় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পাননি বলে অভিযোগ তার।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য সিনেমায় কাজ করেছেন মিজান। রাজ্জাক-শাবানার সময় থেকে শুরু করে শাকিব খানের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত সিনেমার সংখ্যা হাজারের বেশি বলে জানিয়েছেন মিরাজ। অভিনয়ের পাশাপাশি কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বহু মানুষকে চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। আজ সেই মিজান ভালো নেই। তার পাশে নেই চলচ্চিত্রের কেউ।
