স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘বেহেশতের কথা বলে যারা ভোট নিয়েছে, তারা নিশ্চয়ই এখন ডুয়েল অভিনয় করবে। মুসলমানদের বলবে বেহেশত দেব, আবার দুর্গামন্দিরে এসে ঢাকের তালে তালে নাচবে, উলু দেবে, বসবে; যেটুকু অভিনয় করার মানুষের ভোটের জন্য করবে।’
শুক্রবার দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নিজ নির্বাচনী এলাকা শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার সনাতন ধর্মের নারীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের শাড়ি বিতরণ করেন তিনি। দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের উথলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এবং সোয়া ১২টায় মোকামতলা বন্দর সার্বজনীন দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি, শ্রদ্ধেয় নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি, বর্তমান তারেক রহমানের দ্বারা পরিচালিত বিএনপি—আমরা কখনো সাধারণ মানুষের সঙ্গে এবং কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধোঁকা দেওয়া, অভিনয় করা—আমরা এটা করি না। আমরা যা বাস্তব, আমরা সেটাই করি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় দুর্গোৎসব ঢাকার বাইরে পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ তারিখ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর থেকে শুরু করবেন। রংপুর-রাজশাহী হয়ে তিনি চট্টগ্রামে গিয়ে শেষ করবেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবে অংশ নেবেন তিনি।
শাহে আলম আরও বলেন, সব ধর্মের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই মাঠে থাকছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তাঁরা সামাজিক নিরাপত্তা তৈরি করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরভিত্তিক কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে দশমীর দিন পর্যন্ত যাতে নির্বিঘ্নে এই উৎসব তারা পালন করতে পারে, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি দেশ মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাশে মসজিদ, এখানে মন্দির—একই প্রাচীরের দুই ভাগে বিভক্ত। এখানে পূজা-অর্চনা হচ্ছে, ওখানে নামাজ হচ্ছে। নির্বিঘ্নে যে যার ধর্মীয় অনুশাসন পালন করছে দীর্ঘদিন যাবৎ। এই বিষয়টা বিনষ্ট করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল ইতিপূর্বে বলেছিল, হিন্দুরা তাদের পকেটের লোক। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায় কারও পকেটের লোক নয়। তারা স্বাধীন, তারা বাংলাদেশের নাগরিক, তারা বাংলাদেশি। তাদের মত–ভোট ইচ্ছেমতো প্রয়োগ করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং সেটা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।’
শাহে আলম আরও বলেন, ‘আমরা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতির একটা দেশ পেয়েছি। আমাদের একটু সময় দিতে হবে। এই সরকার কেবল সাত মাস অতিবাহিত করছে। এর মধ্যে আমরা অনেক ভালো কাজ করার চেষ্টা করছি। আগামী দিনে মানুষের মঙ্গলের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের এই সরকার তা করবে ইনশা আল্লাহ।’
