কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহের জন্য গিয়ে চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে রেশমি জন্নাত, হালিমাতুস সাদিয়া ও তানিয়া সোলতানা নামে লামা উপজেলার তিন ছাত্রী। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিলেও চারদিন ধরে কোথাও তাদের কোনো হদিস মেলেনি ।
১১ অক্টোবর সকাল ১১টায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা এলাকা থেকে চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহের জন্য গিয়ে নিখোঁজ হয় তিন নারী শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিন শিক্ষার্থীর পরিবার।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর কোনো হদিস পায়নি পুলিশ। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিখোঁজ শিক্ষার্থী রেশমি জন্নাত ও হালিমাতুস সাদিয়ার বড় মামা মোহাম্মদ আলমগীর।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রেশমি জন্নাত, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা বনফুর এলাকার শহিদুল ইসলামের কন্যা। আর হালিমাতুস সাদিয়া একই ইউনিয়নের ইয়াংছা বদুরঝিরি এলাকার বেলাল উদ্দিনের কন্যা এবং তানিয়া সোলতানা ইয়াংছা এলাকার আবুল হাশেমের কন্যা। তাদের মধ্যে রেশমি জন্নাত ও হালিমাতুস সাদিয়া সম্পর্কে আপন খালাতো বোন। আর তানিয়া সোলতানা তাদের প্রতিবেশী। তবে তারা তিনজনই ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম, অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলে জানান রেশমি জন্নাতের মামা মোহাম্মদ আলমগীর।
নিখোঁজ শিক্ষার্থী রেশমি জন্নাত ও হালিমাতুস সাদিয়ার বড় মামা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহের জন্য গত ১১ অক্টোবর সকালে লামার ইয়াংছা এলাকা থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে পূর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চকরিয়ার মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যায় আমার ভাগনী রেশমি জন্নাত।
এ সময় তার সাথে খালাতো বোন হালিমাতুস সাদিয়া ও একই এলাকার শিক্ষার্থী তানিয়া সোলতানাও ছিল। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা না ফেরায় বাড়ির সবাই ধারণা করেছিল হয়তো তারা পূর্বের সহপাটির বাসায় রাত্রি যাপন করে পরদিন সকালে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু ১২ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত তারা বাড়ি না ফেরায় তিন শিক্ষার্থীর পরিবারের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকে সাম্ভব্য সকলস্থানে খোঁজ খবর নেওয়া হলেও মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের কোন হদিস মেলেনি। তবে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে লামা থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করার পর পুলিশ এই তিন শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে মাঠে নেমেছে বলেও জানান তিনি।
মোহাম্মদ আলমগীর আরো বলেন, জিডি এন্টির পর পরই লামা থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। লামা উপজেলার ইয়াংছা থেকে চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত এবং মানিকপুর থেকে চকরিয়া পৌর সদর পর্যন্ত সড়কের মোড়ে মোড়ে স্থাপিত বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফোটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর সন্ধান নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি তাদের সন্ধান পেলে থানা পুলিশ এবং স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্বজনরা।
এমএইচ
