কালবেলা · আন্তর্জাতিক
কেন একের পর এক বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপ?
১৯/১০/২০২৬

শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, বাড়িভাড়া, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাস্তায় নেমেছেন তরুণেরা। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। কোথাও শিক্ষার মান ও শিক্ষক সংকট, কোথাও আবাসন ব্যয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন মানুষ।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্কুলশিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘ ক্লাসের সময়, শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জটিল পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে তাদের। শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে মাসের পর মাস নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন অন্য বিক্ষোভকারীরা। জ্বালানির দামসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানান তারা। ফ্রান্সের অন্যতম বড় শ্রমিক সংগঠন জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার বিক্ষোভে সমর্থন দিয়ে দাম কমানো, পেনশন বাড়ানো ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
স্পেনে আবাসনসংকট ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। এক বিনিয়োগ তহবিল বাড়িভাড়া ২৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ার পর ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে বাড়ি ছাড়তে হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুই সপ্তাহ পর তার মৃত্যু হয়। এরপর বাড়িভাড়া কমানো, উচ্ছেদ বন্ধ এবং বিনিয়োগ তহবিলের বাড়ি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি ওঠে।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও শনিবার শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটিতে বাড়ির দাম বেড়েছে ১২৪ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ।
ইতালির মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের একপর্যায়ে মুখোশধারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছোড়েন এবং ব্যারিকেডে আগুন দেন। আলবেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার বিরুদ্ধে ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব ও শিক্ষার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্স সরকার শিক্ষকসংকট মোকাবিলায় ৩ হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ এবং স্কুলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নিবন্ধন ফি বাড়ানোর পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে। জ্বালানির দাম নিয়ে প্রতিবাদের পর নির্দিষ্ট কিছু শিল্পের জন্য পেট্রল ভর্তুকি বাড়ানোর ঘোষণাও আসে।
স্পেনে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় জরুরি আবাসন আইন পাসের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ২৯ নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। দেশটিতে আগামী বছরের এপ্রিলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ইউরোপজুড়ে এসব আন্দোলনে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও ন্যায্য মজুরির দাবি সামনে এসেছে। তবে বিক্ষোভের চাপে নেওয়া পদক্ষেপগুলো মানুষের অসন্তোষ কতটা কমাতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মূল প্রতিবেদনে যান ↗