প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রাজা মিয়া ওরফে রাজু। এ নিয়ে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে বিরোধ চলছিল রাজুর। এরই জেরে জান্নাতুল ফেরদৌসকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে নৌকায় তুলে নেন স্বামী। কর্ণফুলী নদী পেরিয়ে নৌকাটি শিকলবাহা ছোট খালে ঢুকে। একপর্যায়ে স্ত্রীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তার মুখ চেপে ধরেন এবং রশি গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে মরদেহটি ফেলে দেওয়া হয় খালে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে জান্নাতুল ফেরদৌস হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বামী রাজা মিয়া ওরফে রাজুসহ তিনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—মো. মুসলিম উদ্দিন (৩৯) ও শুজুর আহম্মদ (২৪)। এ ঘটনায় জড়িত জান্নাতুলের স্বামী রাজা মিয়া পলাতক রয়েছেন।
পিবিআই জানায়, জান্নাতুল ফেরদৌস নগরীর একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন। সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দ্বিতীয় স্বামী রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন। এরপর একসঙ্গে নগরীর চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর রাজাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের সময় রাজা নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিলেও পরে তার প্রথম বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন জান্নাতুল। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের জেরে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা।
গত ২ আগস্ট শিকলবাহা খাল থেকে লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা জান্নাতুলকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার মা ছায়রা খাতুন কর্ণফুলি থানায় হত্যা মামলা করেন।মামলার পর গ্রেপ্তার মুসলিম উদ্দিন বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাংগীর হোসেন জানান, গত ২ আগস্ট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন খালে একটি বস্তাবন্দি নারীর লাশ পাওয়া যায়। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জান্নাতুলের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। জান্নাতুল চট্টগ্রামের ম্যাপ সুজ লিমিটেড নামের একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন। সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে নগরের চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে তাকে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে ব্রিজঘাটা এলাকায় নিয়ে যান রাজা। এরপর তিনি ও তার সহযোগীরা একটি সাম্পান নৌকায় করে শিকলবাহা খালে যান। রাত ৮টার পর নৌকার মধ্যে জান্নাতুলের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি লাশ কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনে শিকলবাহা খালে ফেলে দিয়ে তার চলে যান।
এমকেএইচ জাহাংগীর হোসেন আরও জানান, গত ৬ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় টেকনাফ থেকে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করি। তার তথ্যের ভিত্তিতে শুজুর আহম্মদকে গ্রেপ্তার এবং সাম্পানটি জব্দ করি। মুসলিম ১৪ অক্টোবর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মুসলিম উদ্দিন, রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুক্কুর আহমেদ।
আরএ/ডিজে
