চালক অবসরে যাওয়ার পর ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ সেবা, দ্রুত নিয়োগের দাবি
সৈয়দ স্বাধীন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
- আপডেট সময় : ০৮:২৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
চালক সংকটে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গ্যারেজে পড়ে রয়েছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালক সংকটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে পড়ে থাকায় জরুরি রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে হচ্ছে তাঁদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের গ্যারেজে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় গাড়িটির গায়ে ধুলোবালি জমেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর চালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে সেবাটি বন্ধ রয়েছে। নতুন চালক নিয়োগ না হওয়ায় জরুরি রোগীদের পরিবহনে সংকট তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে উজিরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হানিফ হাওলাদারের স্ত্রী আলেয়া বেগম অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় তাঁকে স্থানান্তর করতে জটিলতা দেখা দেয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়েন স্বজনেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের স্বজনেরা জানান, হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য। তাঁদের পক্ষে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা কঠিন। জরুরি মুহূর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নাজমুস শাকিব বলেন, “আমাদের হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর চালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে সেবাটি বন্ধ। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া হাসপাতালের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, উপজেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে জরুরি সেবা সচল রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

