Published on
:
3 min read
ভারতের জার্সিতে ODI ক্রিকেটে রবীন্দ্র জাডেজার (Ravindra Jadeja) ভবিষ্যৎ কি শেষের পথে? ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তৃতীয় একদিনের ম্যাচে তাঁকে দলে রাখা হয়নি। তখন ভারতীয় অধিনায়ক শুবমান গিল (Shubman Gill) জানিয়েছিলেন, জাডেজাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ODI সিরিজ়ের দলেও জায়গা হয়নি এই অলরাউন্ডারের। ফলে ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় জাডেজা আর নেই বলেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপের আগে অন্য ক্রিকেটারদের সুযোগ দিতে চাইছেন নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই তালিকায় রয়েছেন অক্ষর প্যাটেল (Axar Patel), ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar), হর্ষ দুবে (Harsh Dubey) এবং শাহবাজ় আহমেদের (Shahbaz Ahmed) মতো ক্রিকেটাররা।
৩৭ বছর বয়সি জাডেজা দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতীয় দলের অন্যতম ভরসার ক্রিকেটার। তিন ফরম্যাটেই তাঁর অলরাউন্ড দক্ষতা দলকে সাহায্য করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একদিনের ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স খুব একটা ধারাবাহিক নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ODI ম্যাচে মাত্র দু'টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ব্যাট করার সুযোগও পাননি।
২০২৩ সালের ODI বিশ্বকাপের পর থেকে ভারতের ৩২টি একদিনের ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে খেলেছেন জাডেজা। এই সময়ে তাঁর সংগ্রহ ১৪টি উইকেট। বোলিং গড় ৪৭.৯২ এবং ওভার প্রতি রান দিয়েছেন ৫.২০। অর্থাৎ, উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো কার্যকর হতে পারছেন না এই বাঁহাতি স্পিনার। ব্যাট হাতেও ODI ক্রিকেটে তাঁর পরিসংখ্যান খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ভারতের হয়ে ১৪২টি ইনিংসে ব্যাট করে মাত্র ১৩ বার পঞ্চাশ রানের গণ্ডি পেরিয়েছেন জাডেজা। নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের পিছনে তাঁর সাম্প্রতিক বোলিং ও ব্যাটিংয়ের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকতে পারে।
অন্য দিকে, অক্ষর প্যাটেল ক্রমশ নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করছেন। ১৯টি ম্যাচে ২১টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাঁর ওভার প্রতি রান দেওয়ার হার ৪.৫৩। প্রতি ৪৫ বলে একটি করে উইকেট পেয়েছেন অক্ষর। সেখানে ১৫টি ম্যাচে জাডেজার উইকেট নেওয়ার হার অনুযায়ী, একটি উইকেট পেতে তাঁকে গড়ে ৫৫.২ বল করতে হয়েছে।
ব্যাট হাতেও অক্ষরের উন্নতি নজর কাড়ছে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকে ১৮টি ইনিংসে ৪৩৭ রান করেছেন তিনি। ব্যাটিং গড় ২৯.১৩। মাঝের ওভারগুলিতে স্পিনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারেন অক্ষর। সাত নম্বর বা আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা জাডেজার তুলনায় চার থেকে সাত নম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ব্যাট করার ক্ষমতাও তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় নেই জাডেজা?
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তৃতীয় ODI ম্যাচে জাডেজাকে না দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছিলেন শুবমান গিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় না জাড্ডু ভাইকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমরা ওকে বিশ্রাম দিয়েছিলাম। কারণ, ওই ম্যাচে অন্য ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ করে দেওয়ার পরিস্থিতি ছিল। তিন ম্যাচের সিরিজ়ে দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া খুব কঠিন।’
কিন্তু নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ়ের দলেও জাডেজার জায়গা না হওয়ায় সেই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার (Times of India) একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় জাডেজাকে আর রাখছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁর পরিবর্ত হিসেবে অন্য অলরাউন্ডারদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রতিবেদনে এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের জন্য ভারতের পরিকল্পনায় জাডেজা নেই। অক্ষর ও ওয়াশিংটন এশিয়ান গেমসে খেলছিল। অন্য দিকে, চোটের কারণে হর্ষ দুবে ও শাহবাজ় আহমেদ জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে (CoE) রয়েছে।’
অক্ষরকে জাডেজার তুলনায় এগিয়ে রাখার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ওই সূত্র। তাঁর কথায়, ‘বাঁহাতি স্পিনার ও অলরাউন্ডার হিসেবে অক্ষর জাডেজার থেকে এগিয়ে। ওর উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা বেশি। মাঝের ওভারগুলিতে চার থেকে সাত নম্বরের মধ্যে যে কোনও জায়গায় ব্যাট করতে পারে অক্ষর। ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও ও কোনও অংশে পিছিয়ে নেই।’ ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে ভারতের হয়ে আটটি ম্যাচে মাত্র পাঁচটি উইকেট পেয়েছেন জাডেজা। এই সময়ে তাঁর ওভার প্রতি রান দেওয়ার হারও ছয়ের বেশি। ফলে বিশ্বকাপের আগে তাঁকে নিয়ে নির্বাচকদের নতুন করে ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাডেজাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কি সঠিক?
রবীন্দ্র জাডেজার মতো অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে দলের পরিকল্পনা থেকে সরিয়ে দেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত নয়। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই তাঁর অবদান রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে যে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, তা একদিনের ক্রিকেটে ভারতের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। সাদা বলের ক্রিকেটে মাঝের ওভারগুলিতে রান আটকে রাখা এবং নিয়মিত উইকেট তুলে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই ক্ষেত্রেই জাডেজা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না। অন্য দিকে, তরুণ স্পিনাররা আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও নিজেদের প্রমাণ করছেন। তাই নতুনদের দিকে ঝুঁকতে পারে নির্বাচক কমিটি।