ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে শিক্ষকের প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মার্কেটিং বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও মল চত্বরসংলগ্ন গেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িটি ভাঙচুর করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, কানিজ ফাতেমা, তাসনিয়া বেগম, মিফতাহুল, তাসফিয়া তাবাসসুম ও সিদরাতুল। তাঁরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামের। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তাঁর ছেলে সাদমান সাকিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবারের মতো গাড়ি চালানো শেখার সময় বাবার গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরছিলেন সাদমান সাকিব। একপর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে এলে গাড়িটির সঙ্গে রাস্তায় চলাচলকারী শিক্ষার্থীদের ধাক্কা লাগে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম রহমান বলেন, বিকট শব্দ শুনে রাস্তায় এসে দেখেন, গাড়িটি একটি রিকশায় জোরে ধাক্কা দিয়েছে। এতে রিকশায় থাকা শিক্ষার্থীরা ছিটকে পড়ে এবং কয়েকজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর সাদমান সাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বিচারের দাবিতে আহত শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি শুনলাম দুর্ঘটনার ঘটনাটি। কয়েকজন শিক্ষার্থী রিকশা থেকে পড়ে গেছে। আল্লাহ বাঁচিয়েছে যে কোনো ধরনের বড় অ্যাক্সিডেন্ট হয় নাই।’
দুর্ঘটনার পর গাড়ি ভাঙচুর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মারধরের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘অ্যাক্সিডেন্ট তো হতেই পারে। এখন ওই শিক্ষকের ছেলে হোক বা যেকোনো ব্যক্তিই হোক, তাকে মেরে ফেলার উপক্রম হয়ে যায়, এটাই আমাদের ঝামেলা।’
এদিকে, গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন।

