
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি: দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসায়ী শেখ সাহেদ আহমদ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে পরিবার। নিখোঁজের ঘটনায় ব্যবসায়িক অংশীদার ইমন আহমদের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাহেদের সন্ধান চেয়েছেন স্বজনরা।
নিখোঁজ শেখ সাহেদ আহমদ সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের হাড়িয়ারগাঁও গ্রামের মছব্বির আলীর ছেলে।
সাহেদের ভাই শেখ রাসেল জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় সাহেদের সঙ্গে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের করচা গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে ইমন আহমদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার অংশীদারি ব্যবসা রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত থেকে সাহেদ নিখোঁজ রয়েছেন।
শেখ রাসেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সাহেদ নিখোঁজ হওয়ার দিন রাতেই তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার ও রুমমেট ইমন আহমদ বাংলাদেশে থাকা শেখ রাসেল এবং বাহরাইনপ্রবাসী আরেক ভাই জাহেদ আহমদকে ফোন করে জানান, সাহেদ রাতে বাসায় ফেরেননি। পরদিন ১ অক্টোবর ইমন দাবি করেন, সাহেদের কাছে তাঁর ১২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। কিছুক্ষণ পর ইমনের ভাই ফোন করে ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ইমন দাবি করেন, সাহেদ তাঁর পাসপোর্ট নিয়ে অন্য কোথাও চলে গেছেন।
পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকে সাহেদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্বজনদের দাবি, সাহেদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ইমন আহমদ শুরু থেকেই অসংগতিপূর্ণ ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসছেন। প্রথমে পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও পরে পাসপোর্ট ও পারমিট, এরপর দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
তাঁদের আরও দাবি, ‘সাউথ বাংলা’ ও ঈক ইধনঁষ ঙভভরপরধষ’ নামের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিওতে ইমন সাহেদের চলে যাওয়ার তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার থানায় করা মামলায় ১ অক্টোবর রাতে সাহেদ চলে যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে পরিবারের দাবি। এ ছাড়া ব্যবসার মালিকানা নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
পরিবারের দাবি, ব্যবসায় সাহেদের ৫০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। তবে ইমন ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলে তাঁদের সন্দেহ। এ ঘটনায় সাহেদকে হত্যা বা গুম করা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা আমাদের ভাইয়ের জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত সিলেটিসহ সব প্রবাসী ভাইয়ের কাছে আমাদের আকুল আবেদন-কেউ শেখ সাহেদ আহমদের সন্ধান পেলে দ্রুত পরিবারকে জানিয়ে তাঁকে খুঁজে পেতে সহযোগিতা করুন।
পরিবারের পক্ষ থেকে শেখ সাহেদের সন্ধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
