অনলাইন ডেস্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা দুই দিন গরুভোজের আয়োজন ঘিরে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে গরুভোজের পর শনিবার বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা একই ধরনের আয়োজন করে। দুর্গাপূজার সময়ে এমন আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।
শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করা হয়। পরে বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গরুর মাংসের তেহারি বিতরণ করা হয়। রাতে আয়োজন করা হয় কাওয়ালি অনুষ্ঠানের। আয়োজকদের দাবি, ছয় শতাধিক মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জনপ্রতি ৪০ টাকা নিবন্ধন ফি নিয়ে ৮৫ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির মাংসের কাচ্চির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল বলে জানান তাঁরা।
খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ওবায়দুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সব ধর্ম ও মতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে গরুভোজ ও কাওয়ালির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি এটিকে প্রতিবাদী কর্মসূচি বলেও উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান জানান, শনিবারের আয়োজনের অনুমতি দিতে প্রশাসন প্রথমে রাজি ছিল না। পরে কিছু শর্তে অনুমতি দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এ আয়োজনের মধ্যে ধর্মবিদ্বেষের প্রকাশ দেখছেন। তাঁর মতে, যে আয়োজন অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করে, তা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে করা উচিত নয়। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারাও দুর্গাপূজার সময়ে এমন আয়োজনের প্রভাব এবং ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
গত ১২ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছাকাছি মুক্তমঞ্চ এলাকায় গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন। কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী এতে আপত্তি জানান। তাঁদের অভিযোগ, মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না করায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। রান্নার চুলা তৈরিতে মন্দিরের ইট ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ হয়।
১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে জকসু বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে এবং বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি জানায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে কোনো আয়োজন যেন অন্যের অনুষ্ঠান বা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। ভুল-বোঝাবুঝি থেকে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় প্রশাসন দুঃখও প্রকাশ করে।
