মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক’ কাজ করায় গত সপ্তাহে সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম ও সিঁতি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছিল সেখানে শুধু মক্কার একটি মসজিদের কথা বলা হয়েছে। তাদের দণ্ড ও অপরাধ নিয়ে বিস্তারিত কোনো কিছুই প্রকাশ করা হয়নি।
আর এ কারণে এ ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সঙ্গে অনলাইন ও সামাজিকমাধ্যমে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন তথ্য। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই ঘটনার পর পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফ্রিকার কিছু দেশ থেকে প্রায় একই রকম লেখা একটি পোস্ট বারবার প্রকাশ করা হচ্ছে। যেখানে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের জন্য এক ভারতীয়কে দোষী করা হচ্ছে। এসব পোস্টে বলা হচ্ছে, নজরুল ও সিঁতি মক্কার হেরেম শরিফের একটি রুমের ভেতর অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়েছিলেন। আর তা ভিডিও করে ছড়িয়েছেন নজরুলের এক ভারতীয় বন্ধু। যাকে আবার ২০ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হচ্ছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অপরাধের কথা না বলা হলেও; এসব পোস্টে বলা হচ্ছে, নজরুল ও সিঁতি সরাসরি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিলেন।
ইংরেজিতে লেখা শতশতবার প্রকাশ করা ওই পোস্টে বলা হয়েছে, “আমি এই নোংরা ও লজ্জাজনক বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বিন্দুমাত্র ইচ্ছুক ছিলাম না। কিন্তু মিথ্যা ও বানানো গল্পের যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তার প্রতিবাদেই আমি এটি পোস্ট করতে বাধ্য হচ্ছি।”
“বাংলাদেশ থেকে যাওয়া দুই ব্যক্তি—নজরুল ইসলাম এবং সিঁতি আক্তার। দুজনই বিন লাদেন কোম্পানিতে কাজ করতেন এবং মক্কা মুকাররমার মসজিদ আল-হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ক্লিনার) হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। মেয়েটি বাথা কুরাইশের একটি ভিলায় এবং ছেলেটি হাই আল-ইসকানের একটি ভিলায় বসবাস করতেন।”
“ডিউটি চলাকালীন তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা মসজিদ আল-হারামের ৮৫ ও ৮৭ নম্বর গেটের মাঝের সিঁড়িতে অবস্থিত একটি নির্জন ঘরে ব্যভিচারে লিপ্ত হন।”
“নজরুল ইসলাম তার এক ভারতীয় বন্ধুকে নিচে পাহারা দেওয়ার জন্য দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। সেই বন্ধু ঘটনাটির একটি ভিডিও রেকর্ড করে। পরবর্তীতে সে নিজে মেয়েটির সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে চাইলে যখন সফল হতে পারেনি, কিংবা যখন তাদের কেউই রাজি হয়নি, তখন সে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।”
পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, “এরপরই বিষয়টি সবার নজর কাড়ে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ তিনজনকেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ভারতীয় যুবকটিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং সে এখনও জেলেই রয়েছে। বাকি দুজনকেও কারাগারে বন্দি রাখা হয়।”
“নজরুল ইসলাম ২০২২ সালের ১০ থেকে ১৩ নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে এসেছিলেন। ২০২৩ সালের মে মাসে সে এই অপরাধটি সংগঠিত করে, যার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। সে ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জেলে ছিল। এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার বছর ধরে চলে।”
“এই সময়ে কফিল (স্পন্সর) এবং কোম্পানিকে অবহিত করা সৌদি সরকারের দায়িত্ব ছিল, অন্য দেশের সাধারণ মানুষকে তা জানানো তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।”
“অনেকেই দাবি করছেন যে, তারা দুজন ওমরাহ করতে গিয়ে সেখানে কেবল চুম্বন করেছিলেন। এসব গল্প সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।”
“এটা সত্য যে তারা দুজনই অবিবাহিত ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো: অবিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কেন তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো? আপনারা কি জানেন কেন? কারণ এটি মসজিদ আল-হারাম। এখানে বিষয়টি কেবল ব্যভিচারের শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি মসজিদ আল-হারামের পবিত্রতা ও মর্যাদা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন।”
“এই কারণেই, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ বিচারকগণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে উপযুক্ত মনে করেন এবং সেই অনুযায়ী রায় ঘোষণা করেন। এই বিচার কোরআন ও সুন্নাহর বিধানের সাথেই সঙ্গতিপূর্ণ।”
“সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, আজ অবধি আমরা অত্যন্ত নির্লজ্জের মতো এই বিষয়ে মিথ্যা ছড়িয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের বাম ও ডানপন্থী নাস্তিকরা এসব কথা তো বলছেই, এমনকি বাংলাদেশে যারা ইসলামিক আইন বাস্তবায়নের কথা বলেন, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন।”
“সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের সঠিক পথপ্রদর্শন করুন, আমীন।”
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
খুলনা গেজেট/এনএম
