আজকাল ওয়েবডেস্ক: লখনউয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, মৃত্যুর ঠিক আগে তাঁর শরীরে অন্তত দশটি গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাত লেগেছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গভীর শকের কারণেই শিবার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, কোনও শক্ত বা রুক্ষ বস্তুর সঙ্গে তীব্র আঘাতের ফলেই এই ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে, তবে ঠিক কখন এই চোট লেগেছিল তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার রাতে অযোধ্যা গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টের চারতলা ফ্ল্যাট থেকে পড়ে যান শিবা। প্রথমে ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, শিবার পরিবারের পক্ষ থেকে মারধর ও নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ এটিকে খুনের মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে। এই মামলায় শিবার লিভ-ইন সঙ্গী তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শ্রদ্ধা দুবে, তাঁর বোন, গাড়িচালক এবং আরও দুই জনের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ।
শিবার মা রঞ্জনা শর্মার অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে বেশ কিছুদিন ধরে বন্দি করে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো এবং শেষপর্যন্ত তাঁকে ওপর থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শিবার চোয়াল, চোখের চারপাশ, পাঁজরের হাড় ও পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকী তাঁর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা ও অসংখ্য আঁচড়ের দাগও ছিল। ঘটনার সময় শিবার পরনে শুধুমাত্র অন্তর্বাস ছিল বলেও তিনি জানান। পরিবারের দাবি, গত চার-পাঁচ মাস ধরে শ্রদ্ধা তাঁর সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকার সুযোগ নিয়ে শিবাকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করছিলেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছিলেন। মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে শ্রদ্ধা তাঁদের দোকানে গিয়ে শিবাকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ।
এদিকে তদন্তে নেমে পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে বেশ কিছু যৌন উদ্দীপক ওষুধ ও সেক্স টয় উদ্ধার করেছে। ঘটনার পরপরই আবাসন চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজে 'সেক্রেটারিয়েট' বা সচিবালয়ের স্টিকার লাগানো একটি সাদা অডি গাড়ি ঢুকতে দেখা গেছে, যা নিয়েও তীব্র সন্দেহ দানা বেঁধেছে। শুধু তাই নয়, শিবার ফোনের মেসেজ ও চ্যাট ঘেঁটে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একাধিক উল্লেখ মিলেছে বলে জানা গেছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট স্পষ্ট করেছে যে মৃত্যুর আগেই শিবা গুরুতর জখম হয়েছিলেন, তবে তাঁকে পিটিয়ে মেরে নিচে ফেলা হয়েছিল নাকি আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তিনি নিজেই পড়ে গিয়েছিলেন—সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। পুরো ঘটনার মোটিভ ও নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে সবকটি দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
